অর্থজগত প্রতিবেদন
বাংলাদেশের অর্থনীতির সহনশীলতা নিয়ে প্রশংসা থাকলেও এর আড়ালে বাড়ছে দারিদ্র্য, আয়বৈষম্য ও সাধারণ পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা। স্থবির বিনিয়োগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং রফতানি খাতে সীমিত বহুমুখীকরণ অর্থনীতির অন্তর্নিহিত দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলছে। সরকারি দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ যেকোনো অর্থনৈতিক অভিঘাতে আবার দারিদ্র্যের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন পরিকল্পনা বা কমিশন গঠনের পরিবর্তে দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গত শনিবার বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) প্রকাশনা ‘স্টেট অব দ্য রিয়েল ইকোনমি: ডাইনামিকস অব রিভার্সালস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব উদ্বেগ উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণায় দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি, আয়বৈষম্য বৃদ্ধি এবং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়।
পিপিআরসির গবেষণা অনুযায়ী, দেশে মাঝারি দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে চরম দারিদ্র্যের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যয়ভিত্তিক গিনি সহগ ২০২২ সালের শূন্য দশমিক ৩৩৪ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৪৩৬-এ পৌঁছেছে। আয় ও সম্পদের বণ্টনে বৈষম্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যবধানও যে বাড়ছে, এসব পরিসংখ্যানে তার প্রতিফলন ঘটেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট পরিবারের প্রায় ১৮ শতাংশ, এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে। প্রকৃত আয় না বাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। ফলে সামান্য আয়হানি, চাকরি হারানো কিংবা আকস্মিক চিকিৎসা ব্যয়ও তাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, দেশের অর্থনীতি এখন পরিবারগুলোর আর্থিক দুর্দশা, দুর্বল মূলধনী বিনিয়োগ এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির একটি কাঠামোগত ফাঁদে আটকে রয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি কেবল সাময়িক অর্থনৈতিক মন্দার সমস্যা নয়; বরং অর্থনীতির বিদ্যমান কাঠামো ও নীতিগত দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকট। এ অবস্থায় নতুন কমিশন গঠন কিংবা আরও নীতিপত্র তৈরির পরিবর্তে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের আর্থিক সংকটের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে এসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। এতে সঞ্চয়ের সুযোগ কমছে, দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হচ্ছে এবং ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। ফলে চাকরি হারানো, অসুস্থতা কিংবা মূল্যস্ফীতির মতো আকস্মিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতাও অনেক পরিবারের অবশিষ্ট নেই।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি। গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির গতি কম থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের সামান্য ওপরে থাকতে পারে এবং পরবর্তী কয়েক বছরও প্রবৃদ্ধির গতি দুর্বল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের মতো কার্যকরভাবে দারিদ্র্য কমাতে পারছে না। বিশ্বব্যাংকের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে দারিদ্র্য নিরসনে প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা প্রায় শূন্য দশমিক ৯, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার গড় প্রায় ১ দশমিক ৫। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্র্য হ্রাসের যে সম্পর্ক থাকার কথা, বাংলাদেশে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
এ কারণে শুধু মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে অর্থনীতির সাফল্য বিচার না করে প্রবৃদ্ধির কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর প্রভাব মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আয়বৈষম্য কমানো এবং প্রবৃদ্ধির সুফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো এখন অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আয়বৈষম্যের গভীরতা বোঝাতে তিনি পালমা অনুপাতের বিষয়টিও তুলে ধরেন। সমাজের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের সঙ্গে সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের তুলনামূলক চিত্র নির্দেশক এই অনুপাত ২০২২ সালের ৩ দশমিক ২ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭ হয়েছে বলে জানান তিনি। এর অর্থ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান থাকলেও তার সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে না।
অর্থনীতির এই দুর্বলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্থবিরতা। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় কম থাকায় সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলেও রাজস্ব সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হবে।
শ্রমবাজারের সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশ্বব্যাংকের উপাত্তের বরাত দিয়ে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। শিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার অসামঞ্জস্য এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি তরুণদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সমন্বয় এবং উৎপাদনশীল খাতে বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন তিনি।
রফতানি খাতের সীমিত বহুমুখীকরণও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দুই দশক ধরে তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন রফতানি খাত গড়ে তোলার আলোচনা চললেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রফতানিতে তৈরি পোশাকের অংশ আগে ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
চামড়া, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতকে বিকল্প রফতানি উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেগুলোর সক্ষমতা প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। একটি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, বাণিজ্যনীতি কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় দেশের রফতানি আয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ কারণে নতুন রফতানি খাত গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক। তাঁর মতে, শুধু ডিগ্রি বা সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে কর্মসংস্থানের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সাফল্য কতজন প্রশিক্ষণার্থী বাস্তবে চাকরি পাচ্ছেন বা উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হচ্ছেন, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন ও সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেম অর্থনীতির প্রধান দুর্বলতাগুলো কাটাতে বাণিজ্য, সরকারি অর্থব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বেসরকারি খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শ্রমবাজার ও শিক্ষাব্যবস্থাকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
অন্যদিকে, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের দুরবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা না থাকায় এই খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কৃষি ও পরিবেশবান্ধব খাতে বিকল্প কর্মসংস্থান, শিশু যত্নকেন্দ্র এবং লিঙ্গসংবেদনশীল বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেই দেশের অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃষির আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। রাসায়নিক সার ও বীজের ব্যবহার বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের সামনে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে শুধু বাণিজ্যসুবিধার ওপর নির্ভর করে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে। পণ্যের গুণগত মান, উৎপাদনশীলতা, দক্ষ জনশক্তি ও নতুন বাজার তৈরির সক্ষমতাই ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে।
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি তৈরি, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শাসনব্যবস্থার সংস্কার—এই পাঁচটি স্তম্ভের ভিত্তিতে সমন্বিত উত্তরণকালীন সমঝোতা বা ‘ট্রানজিশন কমপ্যাক্ট’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে পিপিআরসি।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট শুধু প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের ক্রমবর্ধমান আর্থিক অনিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি, আয়বৈষম্য, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। এসব সমস্যার সমাধানে নীতিগত ঘোষণা ও পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় অর্থনীতির সহনশীলতার আড়ালে জমে থাকা চাপ আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।


