অর্থজগত প্রতিবেদন
স্টার্টআপ কোম্পানির কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স’ নিবন্ধন ও কর পরিপালনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তিতে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনবিআর কোনো সিদ্ধান্ত না জানালে সংশ্লিষ্ট আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের সই করা গত ২৮ অক্টোবরের নির্দেশনায় স্টার্টআপ স্যান্ডবক্সের আওতায় নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, কর পরিপালন এবং নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্যান্ডবক্সের আওতায় কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে এনবিআরে নিবন্ধিত হতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এনবিআরের সদস্য (কর আপিল ও অব্যাহতি) বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় আইনগত ও কার্যক্রম-সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) থেকে ইস্যু করা ইনকরপোরেশন সার্টিফিকেট ও সংঘস্মারক (এমওএ)। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণও দিতে হবে।
নির্দেশনায় স্টার্টআপের আর্থিক ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি), অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, মূল ডিজিটাল সিস্টেম অথবা হিসাবের খতিয়ানে আয়কর কর্তৃপক্ষকে পাঠযোগ্য বা ‘রিড অনলি’ প্রবেশাধিকার দেওয়ার সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, কর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল হিসাব ও আর্থিক তথ্য পরিদর্শনের সুযোগ পাবে, তবে সেখানে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না।
আবেদন পাওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে এনবিআর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে ‘স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স নিবন্ধন সনদ’ ইস্যু করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। ফলে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পাশাপাশি আবেদনকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার নিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছে।
তবে নিবন্ধন পাওয়ার পর শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো স্টার্টআপ আবেদনে ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে কিংবা আয়কর কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল হিসাব ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দিতে বাধা সৃষ্টি করলে এনবিআর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারবে।
এ ধরনের নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানকে ৬০ দিন সময় দিতে হবে। জবাব পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপের প্রতিনিধিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে শুনানি করতে হবে। এরপর লিখিত আদেশের মাধ্যমে নিবন্ধন বাতিল করা যাবে।
এ ছাড়া উপযুক্ত কারণ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যুক্তিসংগত শুনানির সুযোগ দিয়েও নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা এনবিআরের হাতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নিবন্ধন বাতিলের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় একদিকে স্টার্টআপের কর সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, অন্যদিকে ডিজিটাল হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর সুবিধা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার কাঠামো নির্ধারণ করেছে এনবিআর।


