অর্থজগত প্রতিবেদন
বিদায়ী সপ্তাহে (২৫-২৯ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্যাংকিং খাত। পাঁচ কার্যদিবসে এ খাতের ৩৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহের তুলনায় ব্যাংকিং খাতে লেনদেন বেড়েছে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফলে সাপ্তাহিক লেনদেনে অন্য সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে ব্যাংকিং খাত।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনার তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৬৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। বিদায়ী সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ৪৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। মোট বাজার লেনদেনে ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্যাংকিং খাত সপ্তাহের সর্বাধিক লেনদেন হওয়া খাতে পরিণত হয়েছে।
লেনদেনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের শেয়ারদরেও দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত এ খাতের ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে বিদায়ী সপ্তাহে ১৫টির শেয়ারদর বেড়েছে। দর কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টির। অর্থাৎ খাতটির ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশের কমেছে এবং ২২ দশমিক ২২ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতে লেনদেনের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটলেও তা সব কোম্পানির শেয়ারদরে সমানভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বরং দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির তুলনায় দর কমা কোম্পানির সংখ্যাও কাছাকাছি ছিল। ফলে লেনদেনের আধিপত্য এবং শেয়ারদরের সামগ্রিক ইতিবাচক প্রবণতাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
বিদায়ী সপ্তাহের বাজারচিত্রে ব্যাংকিং খাতের প্রাধান্য একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মোট লেনদেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ খাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ডিএসইর সামগ্রিক লেনদেনের গতিপ্রকৃতিতে খাতটির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি শেয়ারদরের ধারাবাহিকতা, কোম্পানিভিত্তিক দর পরিবর্তন এবং অন্যান্য খাতের অংশগ্রহণও বাজারের সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাংকিং খাতে এই উচ্চ লেনদেনের প্রবণতা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। একই সঙ্গে অন্যান্য খাতের লেনদেন ও শেয়ারদরের পরিবর্তনও বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।


