অর্থজগত প্রতিবেদন
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
বুধবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের সর্বশেষ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ২ কোটি ডলার। বিপরীতে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ডলার।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সে সময় বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ১৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।
১০ সেপ্টেম্বর দুই হিসাবেই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ও ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে রিজার্ভে বড় ধরনের পতন না হলেও আন্তর্জাতিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক পরিশোধের কারণে এতে ধারাবাহিক ওঠানামা ছিল।
৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু)–এর জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল বাবদ ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়। বড় অঙ্কের এই বৈদেশিক পরিশোধের পর ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ কমে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ওই সময় বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে রিজার্ভের অবস্থান ছিল আরও শক্তিশালী। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।
এ হিসাবে এক মাসের কিছু বেশি সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ প্রায় ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার কমেছে। একই সময়ে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমেছে প্রায় ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। যদিও সর্বশেষ হিসাবে আগের মাপের তুলনায় বিপিএম-৬ রিজার্ভ সামান্য বেড়েছে।
রিজার্ভের এই দুই ধরনের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য মূলত গণনার পদ্ধতিগত কারণে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবের মোট রিজার্ভের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডে গণনাযোগ্য রিজার্ভকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে সাধারণত বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবের তুলনায় কম থাকে।
সাম্প্রতিক হিসাবগুলোতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকা মোট রিজার্ভ ধীরে ধীরে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে। বিশেষ করে আকু বিল পরিশোধের মতো বড় বৈদেশিক দায় মেটানোর পর রিজার্ভে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।


