অর্থজগত ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের সব দূরপাল্লার বোমারু বিমান অজ্ঞাত নিরাপত্তা হুমকির পর নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কী ধরনের হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র হুমকিটিকে একটি ‘বাস্তব ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সাধারণত কোনো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী বোমারু বিমানগুলোকে কাছাকাছি অন্য কোনো সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। কিন্তু এবার সেগুলো যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা এটিকে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এসব বিমান ব্যবহারের তথ্যও রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি অপারেটিং লোকেশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘপাল্লার হামলা পরিচালনায় এই কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বোমারু বিমান প্রত্যাহারের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে কথিত একটি ষড়যন্ত্রের তদন্ত করছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসবাদ ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং তারা লন্ডন এলাকার ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানানো হয়। পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি ভ্যান তল্লাশি করে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সন্দেহভাজনদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি তাদের মুক্তি দিতেন না।
এরপর গত বৃহস্পতিবার ওই কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত সপ্তাহে বলেন, ঘটনাটিতে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাস, কোনো না কোনোভাবে ইরান এ ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও দাবি করেছিলেন, কথিত ষড়যন্ত্রে ‘একজন বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে তিনি ওই পক্ষের পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান।
ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাই নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঘাঁটি ঘিরে চলমান তদন্ত, ইরানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্বাভাবিক প্রত্যাহার—সব মিলিয়ে ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ছে।


