সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের পাঁচ বছরের রোডম্যাপ

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণের বিস্তার, মূলধন ঘাটতি ও দুর্বল ঋণ আদায়ের সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। এ বাস্তবতায় সংকটগ্রস্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠনে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—তিন ধাপে বাস্তবায়নের জন্য ১৩ দফা পদক্ষেপের এই রোডম্যাপে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন, ঋণগ্রহীতার দায় সীমিত করা এবং দুর্বল সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার মাত্রাটিও স্পষ্ট হয়েছে ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক আর্থিক চিত্রে। গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো যে ঋণ বিতরণ করেছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন অনাদায়ী অবস্থায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, খেলাপি ঋণের এই চাপের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে বিপুল প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট ও পুঞ্জীভূত লোকসানের ভারও বহন করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সংকট এখন কেবল ঋণ আদায়ের সমস্যা নয়; এটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, আমানতকারীর স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ ঋণপ্রবাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আগামী এক বছরের মধ্যে উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি প্রান্তিকে পর্যালোচনা বৈঠক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি।

একই সঙ্গে বেশি খেলাপি ঋণে আক্রান্ত ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ আদায়ের কৌশল নির্ধারণে পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হবে। হালনাগাদ করা হবে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বা ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালাও। অর্থাৎ ঋণ দেওয়ার আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ঋণ বিতরণের পর তা তদারকি—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে।

মাঝারি মেয়াদে, অর্থাৎ আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ শনাক্ত ও প্রভিশন সংরক্ষণে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ডের (আইএফআরএস) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ বা প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি ভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে ঋণ পুরোপুরি খেলাপি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি আগেই হিসাব করার সুযোগ তৈরি হবে।

ঋণখেলাপিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেও পরিকল্পনায় বেশ কিছু পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। আইনি বিষয় ও সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করে সাধারণ খেলাপি এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করতে বিশেষ প্রণোদনা বা ভাতার নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

অন্যদিকে, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদেরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন ও হালনাগাদ করা হবে। এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের বিপরীতে একটি ইতিবাচক ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে একজন গ্রাহক পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার একটি সামগ্রিক সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একই গ্রাহক বা গোষ্ঠীর কাছে একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু অংশ সাধারণ খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায় কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রিট বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঋণ আদায় দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ কমাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বড় অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে। ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থায়নের প্রয়োজন হলে ব্যাংকঋণের পরিবর্তে প্রয়োজনে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা উৎসাহিত করা হবে। এতে বড় প্রকল্পে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত ঋণঝুঁকি চাপানোর প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি খাতে ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ গঠনের আইনি কাঠামো তৈরিতেও সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে আটকে থাকা দুর্বল বা সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সংস্কারের কিছু কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে প্রতিটি ব্যাংকের ঝুঁকি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকি প্রশমন সক্ষমতা মূল্যায়ন করে একটি সমন্বিত ঝুঁকি রেটিং দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই রেটিংয়ের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০২৬’, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন এবং ১৯৯৭ সালের দেউলিয়া আইন পরিবর্তন করে নতুন ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপসি আইন’ প্রণয়নের কাজ চলছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার করতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংকটের গভীরতা কতটা

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান আর্থিক চাপের সবচেয়ে বড় সূচক খেলাপি ঋণ। জুন শেষে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন রাখার কথা ছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে সংস্থান করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।

এই ঘাটতি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে। কারণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রভিশন না থাকলে ভবিষ্যতে ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংকের নিজস্ব সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

মুনাফার ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে। মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৮৯ কোটি টাকা। কিন্তু প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় এবং সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির হিসাব সমন্বয়ের পর খাতটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। একই সময়ে রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ঋণাত্মক ১ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমেছে।

মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিএআর) ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চে তা আরও কমে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ হয়েছে। অথচ ব্যাসেল-৩ কাঠামো অনুযায়ী ন্যূনতম প্রয়োজনীয় হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

দেশের ৪০টি ব্যাংক ন্যূনতম মূলধন শর্ত পূরণ করতে পারলেও ১৫টি ব্যাংক তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি আরও চাপের মধ্যে রয়েছে; এ খাতের সিএআর দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৪৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, মূলধনের দুর্বলতা ব্যাংকের লোকসান শোষণ করার সক্ষমতা কমাচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং নতুন করে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত করছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে, সেসব ব্যাংকের পুনর্গঠন ও পুনঃমূলধনীকরণের প্রয়োজন রয়েছে।

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান ২.৫৪ লাখ কোটি

ব্যাংকিং খাতের সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো পুঞ্জীভূত লোকসান। চলতি বছরের মার্চ শেষে ২২টি ব্যাংকের মোট পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদের মান—সব মিলিয়েই ব্যাংকগুলোর ওপর এই ক্ষতির চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ব্যাংকের পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা থাকলেও প্রভিশন, পরিচালন ব্যয় এবং সম্ভাব্য ক্রেডিট লস সমন্বয়ের পর নিট লোকসান থেকে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লোকসানের তালিকায় রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যেও এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মেঘনা ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের নাম রয়েছে। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানও লোকসানে রয়েছে।

সংকটে ১২ ব্যাংক, সহায়তা প্রায় ৮৫ হাজার কোটি

তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ইতোমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিতে হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে মোট ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পেয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পেয়েছে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি ৩২ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ১২ হাজার ১০ কোটি ২৫ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৯ লাখ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পেয়েছে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে ‘লেন্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে। তবে এসব ব্যাংক বর্তমানে সহায়তার মূল অর্থ ফেরত না দিয়ে মূলত সুদ পরিশোধ করছে। মূল অর্থ ডিমান্ড লোন হিসেবে রোলওভার বা নবায়ন করা হচ্ছে।

সামগ্রিক তারল্যে উদ্বৃত্ত, সংকট নির্দিষ্ট ব্যাংকে

ব্যাংকিং খাতের চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কয়েকটি ব্যাংক যখন তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে, তখন পুরো ব্যাংকিং খাত বিবেচনায় মোট তারল্যের ঘাটতি নেই; বরং বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।

সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত বা এসএলআর অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকার সম্পদ রাখার প্রয়োজন হলেও বাস্তবে তাদের হাতে রয়েছে ৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা।

এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে, ব্যাংকিং খাতের সমস্যা সামগ্রিক তারল্য সংকটের চেয়ে বেশি করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা, সম্পদের মান, মূলধন ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ বছরের রোডম্যাপ মূলত ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলোকে কাঠামোগতভাবে মোকাবিলার একটি প্রচেষ্টা। তবে পরিকল্পনার কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোরতা, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং ব্যাংক পরিচালনায় সুশাসন কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর। সংসদীয় কমিটিও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত