সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের বিক্ষোভ : নারী সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ

অর্থজগত ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশকর্মীদের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৩ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে তিন নারী সাংবাদিক কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেন। নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে পরবর্তী তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিযোগকারী তিন সাংবাদিকই ফ্রিল্যান্সার এবং বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবরের পরদিনও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এক নারী সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারী নারীদের আটক করার সময় সেখানে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। পুরুষ পুলিশ সদস্যরাই নারী আন্দোলনকারীদের আটক করছিলেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে এক পুলিশকর্মী তাকে ধাক্কা দেন এবং তার স্তনে হাত দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদ করার পর ওই পুলিশকর্মী সেখান থেকে সরে যান বলেও দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক।
অন্য এক নারী ভিডিও সাংবাদিকও যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে অশোকা রোডে বিক্ষোভের ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আটক করার দৃশ্য ধারণের সময় পেছন থেকে তিনি আপত্তিকর স্পর্শ অনুভব করেন। তার অভিযোগ, কেউ যৌন উদ্দেশ্যে তাকে শরীরের সঙ্গে ঘষছিলেন। সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারেননি। পরে ঘুরে কাছাকাছি এক পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবাদ করলেও ওই পুলিশ সদস্য গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হন। তারা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে তিন নারী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেন।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আইসার সভানেত্রী নেহা বোরা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আগের দিন আটক হওয়ার পরও তারা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করায় ফের তাদের আটক করা হয়।
নারী সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগে এফআইআর দায়ের এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন বিক্ষোভের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রোববারও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ফের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও নাগরিক অসন্তোষ, অন্যদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—দুই বিষয়েই দিল্লির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত