সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ২৭৭ কোটি ডলার

অর্থজগত প্রতিবেদন
সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাসটিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও তিন মাস মিলিয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এতে আমদানি ব্যয় পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ার পেছনে হুন্ডি নিরুৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের মত। ফলে টানা কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় আসে। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের এই প্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও সেই প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত