অর্থজগত ডেস্ক
রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন কংগ্রেসের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞাগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর মার্কিন উদ্যোগে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। আদেশে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূলে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প নিজেই নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিলে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছিলেন। আইনটি রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়াবিষয়ক নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানির বাজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করবে। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকান নাকি ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকবে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বিস্মিত করেছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনটি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা হয়েছে। সাউথ ক্যারোলাইনার এই সিনেটর গত ১১ জুলাই মৃত্যুর আগপর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের অন্যতম কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সমর্থন রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের মতো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।


