সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

আয় বাড়লেও লভ্যাংশে স্থির অ্যাপেক্স স্পিনিং

অর্থজগত প্রতিবেদন
ইপিএস বেড়েছে ২১ পয়সা, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য বেড়েছে ২ টাকা ৯৭ পয়সা; কমেছে পরিচালন নগদ প্রবাহ
শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্য—দুই সূচকেই উন্নতি করেছে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড। তবে মুনাফা বৃদ্ধির প্রতিফলন পড়েনি লভ্যাংশে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আগের অর্থবছরের মতোই ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘোষিত ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের অর্থ, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা পাবেন ২ টাকা। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আয় ও নিট সম্পদমূল্যের দিক থেকে বছরটি আগের বছরের তুলনায় ইতিবাচক ছিল। তবে একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ কমেছে। ফলে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের আর্থিক চিত্রে একদিকে মুনাফা ও সম্পদ বৃদ্ধির প্রবণতা থাকলেও অন্যদিকে নগদ প্রবাহে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত মিলছে।

ইপিএসে ঊর্ধ্বগতি

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পুনঃনির্ধারিত ইপিএস ছিল ৩ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২১ পয়সা। শতাংশের হিসাবে ইপিএস বৃদ্ধির হার প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানির আয় কিছুটা বেড়েছে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তুলনার ক্ষেত্রে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের পুনঃনির্ধারিত আর্থিক তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ইপিএস বৃদ্ধিকে কোম্পানির মুনাফা সক্ষমতার ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হলেও এর পুরোটা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। বরং লভ্যাংশের হার আগের বছরের পর্যায়েই রাখা হয়েছে।

সম্পদমূল্যও বেড়েছে

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিট সম্পদমূল্য বা এনএভিতেও উন্নতি হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ২০ লাখ ১ হাজার ৬২৭ টাকা। এর আগের অর্থবছর শেষে পুনঃনির্ধারিত নিট সম্পদমূল্য ছিল ৬৩ কোটি ৭০ লাখ ৫২ হাজার ৯৮৬ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। শেয়ারপ্রতি হিসাবেও সম্পদমূল্যের এই অগ্রগতি স্পষ্ট। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকা ৮১ পয়সা। আগের অর্থবছর শেষে পুনঃনির্ধারিত শেয়ারপ্রতি এনএভি ছিল ৭৫ টাকা ৮৪ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ২ টাকা ৯৭ পয়সা। অর্থাৎ কোম্পানির সম্পদভিত্তিও আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।

বিপরীত চিত্র নগদ প্রবাহে

তবে আয় ও সম্পদমূল্যের ইতিবাচক প্রবণতার সঙ্গে মিল নেই পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহের চিত্রে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের অর্থবছরে এই সূচক ছিল ২২ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে ১ টাকা ৭২ পয়সা। এই ব্যবধানটি কোম্পানির আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসাবভিত্তিক মুনাফা বাড়লেও ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে আসা নগদ অর্থ একই ধারায় বাড়েনি। ফলে ভবিষ্যতে কোম্পানির কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা, নগদ অর্থের ব্যবহার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের সক্ষমতার দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকতে পারে।

আয় বাড়লেও কেন বাড়ল না ডিভিডেন্ড

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ইপিএস বাড়লেও নগদ লভ্যাংশের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরেও কোম্পানিটি ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এবারও একই হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় ২১ পয়সা বাড়লেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ বাড়েনি। এতে বোঝা যায়, আয় বৃদ্ধির পুরো অংশ তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে কোম্পানি তার আর্থিক কাঠামোর মধ্যেই রেখেছে। ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন, পরিচালন ব্যয়, কার্যকরী মূলধন কিংবা অন্যান্য আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও এ ধরনের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লভ্যাংশের হার অপরিবর্তিত থাকলেও শেয়ারপ্রতি আয় ও নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির মৌলভিত্তির কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

সামনে বিনিয়োগকারীদের নজর কোথায়

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফলকে তাই একক কোনো সূচক দিয়ে মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ইপিএস বেড়েছে, নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে—যা ইতিবাচক। বিপরীতে পরিচালন নগদ প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসার নগদ সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করে। একই সঙ্গে ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না এবং সেই আয় থেকে নগদ প্রবাহ কতটা শক্তিশালী হয়—তার ওপর পরবর্তী সময়ে লভ্যাংশ নীতির পরিবর্তন নির্ভর করতে পারে।

২৬ নভেম্বর এজিএম

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে অনুষ্ঠেয় এ সভায় নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশসহ পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিষয় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ অক্টোবর ২০২৬। ওই তারিখে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার নিবন্ধন ও শেয়ার সংরক্ষণাগারে যেসব বিনিয়োগকারীর নাম থাকবে, তারাই ঘোষিত লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। সামগ্রিকভাবে অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলে আয় ও সম্পদমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে পরিচালন নগদ প্রবাহ হ্রাসের একটি মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে কোম্পানিটির পরবর্তী সময়ে মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, নগদ প্রবাহের সক্ষমতা এবং লভ্যাংশ নীতির পরিবর্তনই বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত