অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এম ক্যাপিটাল লিমিটেড। ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ নামে এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের মূলধন, দক্ষতা ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক যোগাযোগকে দেশের সম্ভাবনাময় খাতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং কমিউনিটি নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে সামাজিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি গ্রামীণ নারীদের জন্য ডেটা সেন্টার স্থাপন, নার্সিং কলেজ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয় তুলে ধরেন। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বিমানবন্দর অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনাগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা যাতে নিজেদের নামে লাভজনক ও নিয়ন্ত্রিত সম্পদের মালিক হতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরিই ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে শুধু ভোগ বা সাধারণ আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করা হবে।
১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় তিনটি বিশেষায়িত তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো হলো—ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ড, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড এবং হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড।
ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ডে ফিনটেকের সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মতো খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের লক্ষ্য হবে অনাদায়ী ও সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সেগুলোর পুনরুদ্ধারে কাজ করা।
অন্যদিকে হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ডের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, হাসপাতাল ও হেলথকেয়ার সিটিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ‘সুখী প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত তহবিলগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে। তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন উপদেষ্টা পর্যায়ের তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। বিনিয়োগের পর দুই বছরের লক-ইন মেয়াদ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না। তহবিলগুলোর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ব্যাংক।
প্রবাসী বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিধি বাড়াতে বিশ্বের ১০০টি শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কমিউনিটির কাছে ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ উদ্যোগটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এম ক্যাপিটাল। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ড. আহসান এইচ মনসুরের ভাষায়, ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ মূলত পরিবর্তনের একটি আহ্বান। প্রবাসীদের অর্থের পাশাপাশি তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক যোগাযোগকে একত্র করে বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বনানীভিত্তিক এম ক্যাপিটাল লিমিটেড একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ও প্রবাসী মূলধন সংগ্রহ করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে নতুন মূলধনের প্রবাহ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


