অর্থজগত ডেস্ক
স্মার্টফোন ধীরগতিতে কাজ করলে বা হ্যাং হয়ে গেলে অনেকেই দ্রুত রিস্টার্ট করেন। এতে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধানও হতে পারে। তবে বারবার রিস্টার্ট করলেই যে ফোনের গতি বাড়বে, এমন নয়। বরং স্টোরেজের ঘাটতি, পুরোনো সফটওয়্যার, ব্যাটারির সমস্যা কিংবা হার্ডওয়্যারের ত্রুটির কারণে ফোন ধীরগতির হলে রিস্টার্টে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—উভয় ক্ষেত্রেই রিস্টার্টের মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেম নতুন করে চালু হয়। এ সময় চলমান অ্যাপ ও সাময়িক সিস্টেম প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। ফলে কোনো অ্যাপ আটকে গেলে, ফোনের স্ক্রিন অস্বাভাবিক আচরণ করলে কিংবা সাময়িক সফটওয়্যার ত্রুটি দেখা দিলে রিস্টার্ট কার্যকর হতে পারে। কিন্তু এটি ফোনের প্রসেসরের ক্ষমতা বাড়ায় না কিংবা সব ধরনের সমস্যার সমাধান করে না।
ফোনের গতি কমে গেলে প্রথমেই এর স্টোরেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ছবি, ভিডিও ও অপ্রয়োজনীয় ফাইলের কারণে জায়গা কমে গেলে অ্যাপ চালানো এবং বিভিন্ন সিস্টেম প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মেমোরি ব্যবহারকারী অ্যাপ, পুরোনো সফটওয়্যার এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়াও ফোনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো মডেলের ফোনে আধুনিক ও ভারী অ্যাপ ব্যবহারের সময় ধীরগতি বেশি অনুভূত হতে পারে।
ফোনের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে পর্যাপ্ত স্টোরেজ খালি রাখা, অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করা এবং অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময় ফোন ধীর হয়ে গেলে সেটি আপডেট করা বা অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে ক্যাশ পরিষ্কার করার সঙ্গে অ্যাপের সব ডেটা মুছে ফেলার পার্থক্য রয়েছে, তাই সেটিংস পরিবর্তনের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সাধারণভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন রিস্টার্ট করলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিস্টার্ট করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। কোনো সমস্যা দেখা দিলে একবার রিস্টার্ট করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এরপরও ফোন বারবার হ্যাং করলে বা ধীরগতির সমস্যা অব্যাহত থাকলে ব্যাটারি, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
মূল কথা, রিস্টার্ট সাময়িক সফটওয়্যার সমস্যা কাটাতে সহায়তা করে, কিন্তু ফোন ধীরগতির হওয়ার সব কারণ দূর করতে পারে না। তাই বারবার রিস্টার্ট না করে সমস্যার উৎস শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতা বজায় রাখার কার্যকর উপায়।


