সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ

অর্থজগত প্রতিবেদন

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। এ ফাঁকি রোধের পাশাপাশি ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত, মোবাইল ফোন চুরি প্রতিরোধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধ করতে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়নে অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর তথ্য উঠে এসেছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে বর্তমানে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও নিবন্ধন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ পর্যায়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হবে।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্যবস্থাটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও জনভোগান্তি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হ্যান্ডসেট বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের জন্য পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের হ্যান্ডসেটের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ফলে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিস্তার রোধের পাশাপাশি দেশের মোবাইল ফোনের বাজারে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত