সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে অক্টোবরে – বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থজগত প্রতিবেদন
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে ব্যবসা সহজ করা, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আজ রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ইআরএফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ’স এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ট্রাজেক্টরি: ক্রিটিক্যাল চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড এক্সপ্লোরিং পলিসি অপশনস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এলডিসি উত্তরণ পেছানোর অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) প্রক্রিয়া অতিক্রম করার পর বিষয়টি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) তোলা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য আরও তিন বছর সময় চাওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা তাঁর।
বাড়তি সময় চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না। উত্তরণের রাজনৈতিক গুরুত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হলেও এর সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এখন অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে ইইউর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।
উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) অথবা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ের কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের আগেই এ আলোচনা শেষ করতে চান মন্ত্রী। পাশাপাশি ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও চলবে।
বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য বিক্রির জন্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং রফতানি সম্প্রসারণে বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
ব্যবসা শুরুর দীর্ঘসূত্রতাকে বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব ও প্রাথমিক ছাড়পত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে আমদানি নিবন্ধন সনদ নিয়ে যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত গড়ে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। এ পরিস্থিতি বদলাতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে ফিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
এ ছাড়া যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সেবা পুরোপুরি অনলাইন করা, বিভিন্ন লাইসেন্সের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে লাইসেন্স ও অনুমোদন পেতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
জ্বালানি সংকটকে নতুন বিনিয়োগের বড় প্রতিবন্ধকতা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে এলএনজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বাংলাদেশকে চাপের মুখে পড়তে হয়। এ ঝুঁকি কমাতে কৌশলগত মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান। এতে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আখতার মালা। সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হক।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত