সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬

ভেজাল দুধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

অর্থজগত প্রতিবেদন
দুধে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ও ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ করে শিশুখাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ভেজাল দুধ প্রতিরোধে দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুধের বিকল্প নেই। অথচ দুধে ভেজাল মেশানোর মাধ্যমে শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি এ জেলার দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভেজালের অভিযোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কারণে একদিকে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পাবনার দুগ্ধশিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভেজাল দুধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে বলেন। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে জড়িতদের শনাক্ত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে খামারি, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দুধে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, দুধের গুণগত মান বজায় রাখতে পাবনার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম সভায় জানান, মতবিনিময়ের আগে তিনি পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় প্রাণ গ্রুপ এবং ফারুক চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রাণ গ্রুপের চিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, দুধের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই দিন পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আনা দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, দুধে ভেজাল প্রতিরোধে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো একটি পর্যায়ে অনিয়ম থাকলেও তা পুরো সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, পাবনা দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা। অল্পসংখ্যক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে জেলার হাজার হাজার সৎ ও পরিশ্রমী খামারির সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ভেজাল দুধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
দুধের গুণগত মান যাচাই এবং ভেজাল শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়াতে পাবনায় একটি স্থায়ী পরীক্ষাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তাঁর মতে, নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে অনিয়ম শনাক্ত করা এবং নিরাপদ দুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পাবনা জেলা সভাপতি, চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি, পাবনা জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দুগ্ধ খামারি, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দুধে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দুধের মান পরীক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পুরো সরবরাহব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ভেজাল প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত