অর্থজগত ডেস্ক
জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। ৩৪ বছর বয়সে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রতিনিধি ও ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ। প্রতিনিধির এক বিবৃতিতে তাঁকে অভিনেতা, সমাজসেবী এবং প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ক্যামেরন কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস সিন্ডি হিনোজোসা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ১২ অক্টোবর মিটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি তাঁর নিজের বাড়িতে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল অভিনীত এমি-জয়ী ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান মিটি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচটি সিজনে প্রচারিত সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। বাস্তব জীবনেও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই পর্দায় চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন এই অভিনেতা। এ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।
সিরিজটিতে ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে মিটির অভিনয় ছিল গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যানসারে আক্রান্ত এক রসায়ন শিক্ষকের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থেকে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ার কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘ব্রেকিং ব্যাড’। মাদক ব্যবসার অন্ধকার জগতে ওয়াল্টার যত গভীরে প্রবেশ করেন, ততই তাঁর সঙ্গে ছেলে ওয়াল্টার জুনিয়রের দূরত্ব বাড়তে থাকে। চরিত্রটির রসবোধ, ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং বাবার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ-অভিমান দর্শকদের মধ্যে আলাদা আবেদন তৈরি করেছিল।
মিটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিরিজটির অন্যতম প্রধান অভিনেতা অ্যারন পল। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ জেসি পিঙ্কম্যান চরিত্রে অভিনয় করা পল হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রয়াত সহকর্মীকে বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর ভাষায়, মিটির অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের জীবনকে পর্দায় আরও বৈচিত্র্যময়ভাবে তুলে ধরার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মিটি। ইউনাইটেড সেরেব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের মতো প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সমাজসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করতে গড়ে তোলেন ‘দ্য মিটি ফাউন্ডেশন’।
লুইজিয়ানায় বেড়ে ওঠা মিটি ২০০৫ সালে পরিবারের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। তাঁর ছোট বোনের অভিনয়জীবনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পরিবারটির এই যাত্রা হলেও সেখানেই তাঁর নিজের অভিনয়জীবনের পথ তৈরি হয়। কিশোর বয়সে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর জন্য অডিশন দেন তিনি এবং পরে ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
অভিনেতার নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে চরিত্রটির মিল থাকলেও পর্দায় সেরেব্রাল পালসির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সিরিজটির স্রষ্টা ভিন্স গিলিগানের এক প্রয়াত বন্ধুর অভিজ্ঞতা থেকে চরিত্রটি নির্মাণের ধারণা এসেছিল। ওই বন্ধুও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং চলাফেরার জন্য ক্রাচ ব্যবহার করতেন।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর বাইরেও টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন মিটি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘হান্নাহ মন্টানা’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ ও ‘ওয়েস্টহ্যাম্পটন’। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ প্রকল্প ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পায়।
ভিন্স গিলিগানের নির্মিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ টেলিভিশন ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সিরিজগুলোর একটি। মোট ৫৮টি প্রাইমটাইম এমি মনোনয়ন পাওয়া সিরিজটি জিতেছে ১৬টি পুরস্কার। এর মধ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আউটস্ট্যান্ডিং ড্রামা সিরিজের পুরস্কারও রয়েছে। সিরিজটির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া মিটি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।


