সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
Home Blog Page 13

ইলিশের নামে বিদেশি মাছের কারসাজি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের রুপালি ইলিশ স্বাদ, গন্ধ ও বৈশিষ্ট্যে বাঙালির রসনার বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ফলে দাম বেশি হলেও মৌসুমে ইলিশ কিনতে আগ্রহের কমতি থাকে না। ভোক্তার এই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে আমদানি করা ইলিশসদৃশ মাছকে দেশীয় ইলিশ হিসেবে বাজারজাত করছে। সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি ও টাকিয়াসহ কয়েক ধরনের মাছকে শুধু ‘আসল ইলিশ’ পরিচয়ে বিক্রি নয়, দেশীয় ইলিশের সঙ্গে মিশিয়ে নদী-সাগর থেকে আসা টাটকা মাছ হিসেবেও বাজারে ছাড়ার অভিযোগ রয়েছে।

কেজিপ্রতি মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে আমদানি করা এসব মাছ ক্রেতার কাছে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশীয় ইলিশের নামে ভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারজাত হওয়ায় তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি।

চট্টগ্রাম মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ (এফআইকিউসি) দপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নিয়মিত হিমায়িত সামুদ্রিক মাছ আমদানি হচ্ছে। এর মধ্যে ইলিশ ও ইলিশের মতো দেখতে মাছও রয়েছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৫০০ টন এবং চলতি মাসে ৮৭ টন সার্ডিনসহ কয়েক ধরনের ইলিশসদৃশ মাছ আমদানি হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ টন এসব মাছ দেশে আসছে। ভারত, মিয়ানমার, ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মূলত মাছগুলো আমদানি করা হয়। তাঁর মতে, গ্রামের অনেক ক্রেতার পক্ষেও আসল ইলিশ সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমদানি করা হিমায়িত মাছের কিছু চালান দেখতে অনেকটাই ইলিশের মতো। কোনো কোনো মাছের শরীরে রক্তের দাগ থাকায় দূর থেকে সেগুলোকে টাটকা মাছ বলেও মনে হতে পারে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের এসব মাছ ঘাট থেকে কেনার পর কোথায় কীভাবে বিক্রি করা হয়, সে বিষয়ে অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি কিছু জানেন না। তবে বাজারে এসব মাছের চাহিদা রয়েছে।

ঘাটের এক ব্যবসায়ীর দাবি, সার্ডিন, চন্দনা ও চৌক্কাসহ ইলিশ গোত্রের কিছু মাছ ঘাট থেকে কিনে কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। পরে ট্রলারে করে সেগুলো গভীর সমুদ্রে নেওয়া হয় এবং সেখানে জেলেদের কাছ থেকে কেনা দেশীয় ইলিশের সঙ্গে মিশিয়ে আবার ঘাটে আনা হয়। এরপর সেগুলো নদী বা সাগর থেকে সদ্য আসা টাটকা মাছ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা চলে। ফলে আসল ইলিশের সঙ্গে বিদেশি মাছ মিশিয়ে বিক্রির একটি চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এভাবে মিশ্রিত মাছের বড় একটি অংশ গ্রামের হাট-বাজারের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়ও বিক্রি হয়। মাছ কেটে রান্না করার পর কোনটি দেশীয় ইলিশ আর কোনটি ইলিশসদৃশ আমদানি করা মাছ—তা শনাক্ত করা সাধারণ ক্রেতার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আস্ত মাছের আকৃতি, রং ও গড়ন দেখে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা কিছুটা পার্থক্য ধরতে পারেন।

চট্টগ্রামের মাছ আমদানিকারক খায়রুল ইসলাম রুমান জানান, ভারত থেকে ইলিশ আমদানি চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে বন্ধ হয়েছে। এখন মিয়ানমার, ওমানসহ কয়েকটি দেশ থেকে ইলিশের মতো দেখতে বিভিন্ন মাছ আসছে। তিনিও সার্ডিনসহ ইলিশ গোত্রের মাছ আমদানি করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার্ডিন প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডিমওয়ালা দেশীয় ইলিশের সঙ্গে সার্ডিনের বাহ্যিক মিল অনেক বেশি। অন্যদিকে চৌক্কা তুলনামূলক লম্বা হওয়ায় তা ডিমবিহীন লম্বা ইলিশের সঙ্গে সাদৃশ্য তৈরি করে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যেও দেশে সামুদ্রিক মাছ আমদানির বড় বাজারের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৫২১ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার টাকার মাছ আমদানি হয়েছে। হিমায়িত সামুদ্রিক মাছের তালিকায় চান্দা মাছের নাম আলাদাভাবে থাকলেও সার্ডিনসহ ইলিশ গোত্রের বেশ কিছু মাছ ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হিরণ মোল্লা প্রায় তিন দশক ধরে ইলিশ বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, কৌশল ব্যবহার করে মাছের আকৃতিতেও পরিবর্তন আনা সম্ভব। বরফে সংরক্ষণের সময় বিশেষভাবে বাঁধার মাধ্যমে ডিমওয়ালা ইলিশকে কিছুটা লম্বাটে করা যায়। একইভাবে সার্ডিন ও চৌক্কা মাছকেও ইলিশের কাছাকাছি আকৃতি দেওয়া সম্ভব বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করেই কিছু বিদেশি ইলিশসদৃশ মাছকে দেশীয় ইলিশ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার মতে, সব ক্রেতাই যে প্রতারিত হচ্ছেন, তা নয়। অনেকেই দেখতে ইলিশের মতো আমদানি করা মাছ সম্পর্কে জানেন এবং জেনেশুনেই সেগুলো কেনেন। তবে এসব মাছের শরীরে দেশীয় ইলিশের মতো উজ্জ্বল রুপালি ভাব তুলনামূলক কম; অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা লালচে আভাও দেখা যায়। তাঁর মতে, দেশীয় ইলিশের স্বাদেও আগের তুলনায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে আমদানি করা ইলিশসদৃশ মাছের সঙ্গে স্বাদের পার্থক্য সাধারণ ক্রেতার পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ইলিশ গোত্রের আমদানি করা মাছ দেশে বিক্রি করা বৈধ হলেও সেগুলোকে অবশ্যই নিজস্ব প্রজাতির নামেই আলাদাভাবে বাজারজাত করতে হবে। দেশীয় ইলিশের সঙ্গে মিশিয়ে ভিন্ন প্রজাতির মাছকে ইলিশ হিসেবে বিক্রি করা গুরুতর অনিয়ম। তাঁর মতে, সাধারণ ক্রেতারা সব সময় মাছের প্রজাতি শনাক্ত করতে পারেন না। তাই বাজারে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি ভোক্তাদের মাছ চেনার বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন মাছের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশে ইলিশের চাহিদা ও উচ্চমূল্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বাজারে মূল সংকট শুধু ভেজাল বা প্রতারণার নয়, পরিচয়ের স্বচ্ছতারও। আমদানি করা মাছ যদি সার্ডিন বা চৌক্কা হিসেবে বিক্রি হয়, ক্রেতা দাম ও মান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু একই মাছকে দেশীয় ইলিশের পরিচয়ে বিক্রি করা হলে সেই সিদ্ধান্তের অধিকারই ক্ষুণ্ন হয়। ফলে ইলিশের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমদানি করা ইলিশসদৃশ মাছের পৃথক বাজারজাতকরণ, সঠিক নাম ও পরিচয় উল্লেখ এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জরুরি।

সোনালী লাইফ ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে উন্নীত

০

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ‘জেড’ ক্যাটেগরি থেকে পদোন্নতি পেয়ে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে স্থান করে নিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুসারে, আগামী সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রতিষ্ঠানটি নতুন ক্যাটেগরিতে লেনদেন শুরু করবে।

বীমা কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ অর্জন তাদের সুসংগঠিত ভিত্তি, শক্তিশালী কর্মক্ষমতা, উন্নত করপোরেট সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতিফলন। এতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার আস্থার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

সম্প্রতি (৩১ আগস্ট ২০২৫) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই লভ্যাংশ প্রদান প্রতিষ্ঠানের মজবুত আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করার সদিচ্ছারই বড় প্রমাণ।

ধারাবাহিক আস্থা ও সমর্থনের জন্য শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক, কর্মী, নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে মানসম্পন্ন ও উদ্ভাবনী বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বিজ্ঞপ্তি

এলপিজিতে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, আমদানি করা এলপিজির কিছু কার্গো ইচ্ছাকৃতভাবে খালাসে বিলম্ব করায় বাজারে সরবরাহ সংকটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) কয়েকজন সদস্য। তারা শীর্ষ আমদানিকারকদের মজুত পরিস্থিতি, কার্গো খালাস এবং বাজারে পণ্য ছাড়ার সময়সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন বিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের যুক্তি, আমদানির পরিসংখ্যানের সঙ্গে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সামঞ্জস্য নেই। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। অর্থাৎ দুই মাসের আমদানিতে বড় কোনো পতন হয়নি।

তারপরও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দামের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে ২ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি প্রায় একই পর্যায়ে থাকার পরও বাজারে এমন তীব্র মূল্যচাপ কেন তৈরি হলো, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটি শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ এলপিজি কার্গো খালাস না করে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগে আইগাজ, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি ও যমুনার নাম এলেও অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা কোনো প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি দায়ী না করে সরকারি তদারকি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের আরেকটি অভিযোগ, অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রিমিয়াম বাড়ার আগে আমদানি করা পণ্য ইচ্ছাকৃতভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরে মূল্য সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে বেশি দামে এসব পণ্য বাজারে ছাড়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা।

তবে লোয়াব সভাপতি ও ডেল্টা এলপিজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমীরুল হক জ্বালানি বিভাগে এ ধরনের কোনো চিঠি পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রিমিয়াম টনপ্রতি প্রায় ৬৪ ডলার বেড়েছে। এর ঠিক আগে আমদানি করা কার্গো যদি খালাস না করে ধরে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।

তাদের মতে, প্রিমিয়াম বৃদ্ধির আগে আমদানি করা পণ্য মজুত রেখে পরবর্তী সময়ে মূল্য সমন্বয়ের পর বাজারে ছাড়া হলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব প্রথমে পাইকারি বাজার এবং পরে খুচরা পর্যায়ের দামে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ কারণে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকভিত্তিক এলপিজি মজুতের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি কার্গো কখন দেশে এসেছে, কখন খালাস হয়েছে, কোথায় মজুত রাখা হয়েছে, বর্তমানে কত পরিমাণ পণ্য অবিক্রীত রয়েছে এবং কখন তা বাজারে ছাড়া হয়েছে—এসব তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রিমিয়াম বৃদ্ধির আগে আমদানি করা এলপিজির কতটা মূল্য সমন্বয়ের পরও বাজারে না ছেড়ে মজুত রাখা হয়েছিল, সেটিও নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। কোনো আমদানিকারক বা বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেশি দামের প্রত্যাশায় ইচ্ছাকৃতভাবে কার্গো খালাসে বিলম্ব করেছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বাজারে মজুতের পরিমাণ বিশ্লেষণ করলেই বর্তমান সংকটের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। অস্বাভাবিকভাবে বেশি মজুতের কারণে যদি সরবরাহ কমে গিয়ে থাকে, তাহলে সেটি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার টন। ফলে আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যায়নি এবং শুধু আমদানি কমে যাওয়াকে বাজার সংকটের কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, সংকটের কারণ খুঁজতে শুধু আমদানির পরিমাণ দেখলে হবে না; বন্দর ও টার্মিনাল থেকে খালাসের পর পণ্য কীভাবে এবং কত দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনের আমদানি, মজুত ও বাজারে সরবরাহের ওপর নিবিড় নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের বক্তব্য, তদন্তে যদি কোনো প্রক্রিয়ার কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, কিংবা কৃত্রিমভাবে সরবরাহ সীমিত করে মূল্য বাড়ানোর ঘটনা ধরা পড়ে, তাহলে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে অভিযোগকারী ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ ছাড়া দায়ী করা নয়। বরং আমদানিকারকভিত্তিক মজুত, কার্গো খালাস ও বাজারে সরবরাহের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা। এতে বোঝা যাবে, বাজারের অস্বাভাবিক দাম প্রকৃত সরবরাহ সংকটের ফল, নাকি সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে কৃত্রিম সীমাবদ্ধতার কারণে তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী বিনিয়োগে ১০০ কোটি ডলারের উদ্যোগ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এম ক্যাপিটাল লিমিটেড। ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ নামে এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের মূলধন, দক্ষতা ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক যোগাযোগকে দেশের সম্ভাবনাময় খাতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার মানুষ এবং কমিউনিটি নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও আধুনিক প্রযুক্তিকে সামাজিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি গ্রামীণ নারীদের জন্য ডেটা সেন্টার স্থাপন, নার্সিং কলেজ গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগ ও কাঠামোগত সংস্কারের বিষয় তুলে ধরেন। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বিমানবন্দর অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনাগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

এম ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা যাতে নিজেদের নামে লাভজনক ও নিয়ন্ত্রিত সম্পদের মালিক হতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরিই ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে শুধু ভোগ বা সাধারণ আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তরের চেষ্টা করা হবে।

১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় তিনটি বিশেষায়িত তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো হলো—ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ড, ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ড এবং হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ড।

ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ফান্ডে ফিনটেকের সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং শরিয়াহসম্মত ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মতো খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের লক্ষ্য হবে অনাদায়ী ও সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সেগুলোর পুনরুদ্ধারে কাজ করা।

অন্যদিকে হেলথকেয়ার ইমপ্যাক্ট ফান্ডের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো, হাসপাতাল ও হেলথকেয়ার সিটিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ‘সুখী প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত তহবিলগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে। তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন উপদেষ্টা পর্যায়ের তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। বিনিয়োগের পর দুই বছরের লক-ইন মেয়াদ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না। তহবিলগুলোর ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে ব্র্যাক ব্যাংক।

প্রবাসী বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিধি বাড়াতে বিশ্বের ১০০টি শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কমিউনিটির কাছে ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ উদ্যোগটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে এম ক্যাপিটাল। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ড. আহসান এইচ মনসুরের ভাষায়, ‘ডাকছে বাংলাদেশ’ মূলত পরিবর্তনের একটি আহ্বান। প্রবাসীদের অর্থের পাশাপাশি তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক যোগাযোগকে একত্র করে বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বনানীভিত্তিক এম ক্যাপিটাল লিমিটেড একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দেশীয় ও প্রবাসী মূলধন সংগ্রহ করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে যুক্ত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে নতুন মূলধনের প্রবাহ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি আবু জাফর

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার মোহাম্মদ আবু জাফর ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি নতুন পদে যোগ দেন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে তিনি ব্যাংকের ব্যবসা ও পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।
ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি হওয়ার আগে মোহাম্মদ আবু জাফর প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও চিফ বিজনেস অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ২০২১ সাল থেকে ঢাকা ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯০ সালে উত্তরা ব্যাংক পিএলসিতে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং পেশায় যাত্রা শুরু করেন মোহাম্মদ আবু জাফর। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ব্যবসা উন্নয়ন, তৈরি পোশাক খাতে অর্থায়ন, অফশোর ব্যাংকিং, করপোরেট ব্যাংকিং, ট্রেজারি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন এবং শাখা ব্যাংকিং উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ২৭৭ কোটি ডলার

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে দেশে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মাসটিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও তিন মাস মিলিয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এতে আমদানি ব্যয় পরিশোধের পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ার পেছনে হুন্ডি নিরুৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখছে বলে খাতসংশ্লিষ্টদের মত। ফলে টানা কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় আসে। এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের এই প্রবাহ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও সেই প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ভ্যাট রিটার্নে বাড়ল সময়

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়াই বকেয়া ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের ভ্যাট মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ভ্যাট রিটার্নসংক্রান্ত সংশোধিত বিধানের কারণে কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন কর মেয়াদের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের রিটার্ন নির্ধারিত সময়ে জমা দেয়নি।

এ পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিল করেনি, তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়েছে এনবিআর। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা হলে কোনো ধরনের জরিমানা আরোপ করা হবে না।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্নই ১৫ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

ফলে নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে জরিমানা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে তিন কর মেয়াদের রিটার্ন একসঙ্গে হালনাগাদ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

অনলাইন জুয়ার বিস্তার, বাড়ছে অর্থপাচার ও আসক্তির ঝুঁকি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন উত্তরার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন (ছদ্মনাম)। ২০২২ সালে কৌতূহল থেকে অনলাইনে জুয়া খেলা শুরু করেছিলেন তিনি। শুরুতে ১০০–২০০ বা ৫০০ টাকা করে খেললেও ধীরে ধীরে সেটি পরিণত হয় আসক্তিতে। কখনো লাভ, কখনো লোকসানের মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে থাকেন তিনি।
২০২৫ সালে একদিন মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা জেতেন ফরহাদ। ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে ধারদেনা পরিশোধ ও মোটরসাইকেল কেনার পর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে আরও বড় লাভের আশায় খেলতে থাকেন। কিন্তু এরপর আর ভাগ্য ফেরেনি। একপর্যায়ে জেতা ৩ লাখ টাকাও শেষ হয়ে যায়। হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় ধার করে আবার খেলতে গিয়ে আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা হারান তিনি। সব মিলিয়ে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১০ লাখ টাকা খুইয়ে জুয়ার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন ফরহাদ। পরে তিনি এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন।
ফরহাদের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। শহর থেকে গ্রাম—দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া। সহজে বড় অঙ্কের অর্থ আয়ের প্রলোভন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মোবাইলভিত্তিক লেনদেনের সহজলভ্যতা এ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধ, অর্থ পাচার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকিও।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে আসক্ত মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশ তরুণ ও যুবক। কার্যকর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ২০২৭ সাল নাগাদ আসক্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

চার ধাপে বিদেশে যায় জুয়ার অর্থ

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার অর্থ সাধারণত চারটি ধাপে হাতবদল হয়ে শেষ পর্যন্ত দেশের বাইরে পাচার হয়। প্রথম ধাপে থাকে জুয়াড়ি, এরপর স্থানীয় এজেন্ট, সুপার এজেন্ট এবং সর্বশেষে মূল হোতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন, পরিচিতজনের মাধ্যমে পাওয়া লিংক কিংবা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা দেখে অনেকেই এসব জুয়ার সাইট ও অ্যাপে যুক্ত হন। এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণত স্লট, ফিশিং ও লাইভ ক্যাসিনোর মতো বিভিন্ন ধরনের জুয়ার ব্যবস্থা থাকে।

জুয়া খেলতে প্রথমে অ্যাকাউন্টে অর্থ বা ‘বেট মানি’ জমা দিতে হয়। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট নম্বরে টাকা পাঠালে তা জুয়ার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়। খেলায় হারলে অর্থ চলে যায়, আর জিতলে একই ব্যবস্থায় অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।

জুয়াড়িদের কাছ থেকে আসা ছোট ছোট অঙ্কের অর্থ প্রথমে জমা হয় স্থানীয় এজেন্টদের এমএফএস অ্যাকাউন্টে। এসব এজেন্ট সাধারণত জুয়ার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়।

স্থানীয় এজেন্টরা টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যমে সুপার এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সংগৃহীত অর্থ সুপার এজেন্টদের এমএফএস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এর বিনিময়ে স্থানীয় এজেন্টরা ০.৪ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পান।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, সুপার এজেন্টরা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রযুক্তি-দক্ষ। তারা জুয়ার সাইট পরিচালনা এবং অর্থ স্থানান্তরের পাশাপাশি ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ বিদেশে পাচারে ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ পৌঁছে যায় জুয়ার মূল হোতাদের কাছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, চার ধাপে অনলাইন জুয়ার অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্টরা কমিশনের বিনিময়ে এই অর্থ স্থানান্তরে সহযোগিতা করেন। তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

ধরা পড়ছে এজেন্ট, অধরা মূল হোতারা

অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চললেও এর মূল নিয়ন্ত্রকদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ১১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে ১২টি মামলা। এর মধ্যে ৮৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীর রামপুরা থেকে সজীব দে (৩৭) ও মো. মাসুদ রানা (৩০) নামে দুই এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।

অন্যদিকে, গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর ওই আইনে ১১টি মামলায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-দক্ষিণ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন চীনা নাগরিকও রয়েছেন।

তবে সিআইডি ও ডিবির অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বড় অংশই স্থানীয় এজেন্ট বা সুপার এজেন্ট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মূল হোতারা দেশের বাইরে থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের গ্রেপ্তার করা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় এজেন্টদের সঙ্গেও মূল হোতাদের সরাসরি যোগাযোগ বা পরিচয় থাকে না। ফলে অর্থের প্রবাহ শনাক্ত করা গেলেও এর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করা জটিল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জুয়ার সাইট ও অ্যাপ পরিচালিত হচ্ছে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়া সাইবার অপরাধের একটি অংশ এবং এর কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

তার মতে, অল্প সময়ে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করে বড় অঙ্কের টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে—এমন ধারণাই অনেককে অনলাইন জুয়ার দিকে টেনে নিচ্ছে। একবার জড়িয়ে পড়ার পর ক্রমেই আসক্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোও এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ ও দেশের বাইরে পাচার করছে।

তবে অভিযান ও নজরদারির কারণে অনলাইন জুয়ার বিস্তার কিছুটা কমেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সার্ভার ও অ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বছরে বাড়ছে জুয়ার বাজার

জিইডির সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বাজারের আকার আনুমানিক ৬২ থেকে ৬৮ মিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর এ বাজার ৪.৭ থেকে ৬.১ শতাংশ হারে বাড়ছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৫ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক চিত্র। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬ হাজার ২২২টি ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে মোট ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে। একই সময়ে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা।

এই পাঁচ বছরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে বিএফআইইউ পেয়েছে ১ হাজার ৮৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসটিআর) ও সন্দেহজনক কার্যক্রম প্রতিবেদন (এসএআর)। ২০২০ সালে এমন প্রতিবেদনের সংখ্যা ছিল ৫০টি। পরের বছর তা বেড়ে ১০৮টি, ২০২২ সালে ২২৭টি, ২০২৩ সালে ৪৬৮টি এবং ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৬টিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন কয়েক গুণ বেড়েছে।

চলতি বছর অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ৭৩৪টি এমএফএস ও ২২৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিতের জন্য বিএফআইইউকে অনুরোধ করেছে সিআইডি। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৯ লাখ টাকা জব্দ করেছে বিএফআইইউ।

একই সময়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭৬৩টি ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে সুপারিশ করেছে সিআইডি।

আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক ঝুঁকি

অনলাইন জুয়ার ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাওহীদুল হক বলেন, জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তরুণদের কেউ কেউ চুরি করছেন, মূল্যবান জিনিস বিক্রি করছেন কিংবা পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তাদের অর্থ ব্যবহার করছেন।

অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বেতন পাওয়ার পর পুরো অর্থ জুয়ায় ব্যয় করে ফেলছেন। পরে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে ধার করে আবার জুয়ায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে পরিবারে আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পারিবারিক শান্তি ও সম্পর্কও হুমকির মুখে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার মতে, শুধু জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে না। জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা, প্রচার, অর্থ সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার ইউনিটগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ফরহাদের মতো কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো এই চক্রে আটকে রয়েছেন। ফলে অনলাইন জুয়া এখন শুধু ব্যক্তিগত অর্থ হারানোর বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তরুণদের আসক্তি, পারিবারিক বিপর্যয়, অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং আন্তঃদেশীয় অর্থ পাচারের মতো বড় ঝুঁকি।

২৪/৭ শুল্কায়নে সমন্বয়ের ঘাটতি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
বন্দর ও কাস্টম হাউসে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন শুল্কায়ন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতায় এর সুফল পুরোপুরি মিলছে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে অর্থ পরিশোধের সুযোগ সীমিত থাকা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের ছুটির দিনে সীমিত উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকা কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসের গতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের দ্রুত পণ্য ছাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে।

বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বন্দর ও কাস্টম হাউসগুলোতে ২৪/৭ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় সপ্তাহের সাত দিনই শুল্কায়ন ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সচল রাখার কথা। তবে বাস্তবে কাস্টমসের কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যাংকিং ও অন্যান্য সহায়ক সেবার সময়সূচির সামঞ্জস্য না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

সমস্যার অন্যতম বড় জায়গা আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা। রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস ব্যাংকিং সময়ের বাইরে এবং সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। ফলে এসব সময়ে বন্দরের বিল তৈরি হলেও আমদানিকারক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা তাৎক্ষণিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবির লেনদেন সীমাও বড় অঙ্কের বন্দর বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।

পণ্য খালাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই ডজনের বেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিনের সীমিত কার্যক্রম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ফলে কাস্টমস ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলেও পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল একইভাবে সচল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না।

২৪ ঘণ্টা পেমেন্ট সেবা চায় বন্দর

নিরবচ্ছিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরটিজিএস ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং এনপিএসবির লেনদেনসীমা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। এ বিষয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় সংস্থাটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বন্দর ২৪ ঘণ্টা সচল থাকায় গভীর রাত এবং শুক্রবার-শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনেও বিপুলসংখ্যক বিল অনলাইনে তৈরি হচ্ছে। বিলিং ব্যবস্থা পুরোপুরি অনলাইন হলেও ব্যাংকিং চ্যানেল ও পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ডিজিটাল পেমেন্টের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, যেকোনো সময় বিভিন্ন অঙ্কের বিল তৈরি হতে পারে। কিন্তু ব্যাংকিং সময়ের পর এবং ছুটির দিনে আরটিজিএস বন্ধ থাকায় আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা সঙ্গে সঙ্গে বিল পরিশোধ করতে পারেন না। আবার এক লাখ টাকার কম অঙ্কের বিল আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগও নেই।

এনপিএসবির ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট সীমা। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং একবারে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। করপোরেট অ্যাকাউন্টে দৈনিক সীমা ২৫ লাখ টাকা এবং একক লেনদেনে ৫ লাখ টাকা। অথচ বন্দরের বিভিন্ন অপারেশনাল বিল অনেক সময় এসব সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় এনপিএসবির মাধ্যমে সেগুলো পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমদানিকারকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ছুটিতে কমেছে কনটেইনার ডেলিভারি

চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও এ সমন্বয়হীনতার প্রভাব দেখা গেছে। গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক ছুটিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ১ হাজার ৩২৮টি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়। এর মধ্যে ৩১টি চালানের অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

তবে একই সময়ে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারির পরিমাণ স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বন্দর থেকে ২ হাজার ৪২৩ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। স্বাভাবিক কর্মদিবসে যেখানে এ সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টিইইউএস।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, বিল অব এন্ট্রি দাখিল পণ্য খালাসের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। এরপর অ্যাসেসমেন্ট, শুল্ক পরিশোধ, শিপিং এজেন্টের কাছ থেকে ডেলিভারি অর্ডার সংগ্রহ এবং বন্দর থেকে পণ্য বের করে নেওয়াসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সমানভাবে সচল না থাকলে শুধু কাস্টমস চালু রেখে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও ছুটির দিনে ট্রাক ও ট্রেইলারের সংকট এবং আমদানিকারকদের সীমিত কার্যক্রমকে কম ডেলিভারির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে।

ঢাকা বিমানবন্দরেও বাড়ছে খালাস না হওয়া পণ্য

একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। ছুটির দিনে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের উপস্থিতি কম থাকায় আমদানি পণ্য খালাসের গতি কমে যাচ্ছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগীব সামাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন জমতে থাকা খালাস না হওয়া পণ্যের পরিমাণ ৪০০ থেকে ৫০০ টনে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় কাস্টমসকে সাত দিনের মধ্যে অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করার বিধান কার্যকর করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পড়ে থাকা চালান নিলামে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের পক্ষ থেকেও ছুটির দিনে অতিরিক্ত শ্রম ব্যয় মেটাতে প্রণোদনা বা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে।

সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছাড়া ২৪/৭ কার্যক্রম কঠিন

ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানিকারকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দরে পণ্য ফেলে রাখেন না। কাস্টমস, ব্যাংকিং, বন্দর এবং অন্যান্য সেবার মধ্যে কোনো একটি পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হলেই পুরো খালাস প্রক্রিয়া থমকে যেতে পারে। বিশেষ করে পণ্য আমদানির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২৬টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের সীমিত কার্যক্রমও পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আরেকটি অভিযোগ, ছুটির দিনে বিভিন্ন শাখা থেকে কর্মকর্তাদের এনে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শাখার নির্দিষ্ট শুল্কায়ন পদ্ধতি, এসআরও এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে তাদের সবার সমান অভিজ্ঞতা থাকে না। এতে কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়।

ব্যবসায়ীদের মতে, সরকার যদি সাত দিনই কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখতে চায়, তাহলে স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতো পর্যাপ্ত জনবল, ব্যাংকিং সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কাস্টমসের দরজা খোলা রাখলেই ২৪/৭ পণ্য খালাস ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।

রাজস্ব আদায়ের চাপও বাড়ছে

২৪/৭ কাস্টমস কার্যক্রম চালুর সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ১৭.৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫১২.৬৬ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি ২৪/৭ চালু হলে আমদানি পণ্যের শুল্ক দ্রুত আদায় হবে এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়বে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, এ উদ্যোগের কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে পুরো পণ্য খালাস ব্যবস্থার সমন্বিত সক্ষমতার ওপর।

কাস্টমস, বন্দর, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক—প্রতিটি পক্ষ একই সময়সূচিতে এবং একই গতিতে কাজ করতে না পারলে ২৪/৭ শুল্কায়ন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি রয়েছে। তাই বন্দর ও কাস্টমসের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কথোপকথনের অপেক্ষায়…

০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিশিষ্টজন ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা, কর্মজীবন ও সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আমাদের বিশেষ সাক্ষাৎকার আয়োজন। তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনার নানা দিক উঠে আসবে এসব কথোপকথনে। পাঠকদের জন্য চিন্তা ও তথ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয়ে খুব শিগগিরই প্রকাশিত হবে আমাদের নেয়া পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি