অর্থজগত প্রতিবেদন
ভারতীয় ভেন্ডরের মাধ্যমে পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ডিজিপে (DGePay)-এর সঙ্গে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) নেটওয়ার্কের সব ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের বাইরে থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লেনদেন সেবা পরিচালিত হওয়ায় তথ্যের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে ডিজিপের সেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের বাইরের ভেন্ডরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এতে সেবাটির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের বাইরে থাকার বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এনপিএসবির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট (পিএসএসডি) পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। আপাতত সেবা বিচ্ছিন্ন করা হলেও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য, ডিজিপের ব্যবহৃত ভারতীয় ভেন্ডর সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ থাকায় দেশের বাইরে থেকে স্থানীয় পেমেন্ট সেবা নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। অথচ দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে লেনদেন সেবা গ্রহণ করছিল। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহক ও আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা বিবেচনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য নয়। তবে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা, তথ্যের সুরক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে হস্তক্ষেপ করা জরুরি। গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ডিজিপের সঙ্গে এনপিএসবির সংযোগ কার্যকরভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এনপিএসবিভিত্তিক লেনদেন সেবা গ্রহণের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পেমেন্ট সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে তাদের গ্রাহক মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এ সময়ে কোনো গ্রাহকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ মাহমুদের অভিযোগ, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে সেবা পরিচালনার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বাংলাদেশেই গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ডিজিপের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে পেমেন্ট সেবা পরিচালনায় দেশের বাইরে থাকা প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকিটি নতুন করে সামনে এসেছে।


