অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। নতুন এই বাজার চালুর আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ মার্কেট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ মাহাদি হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সিএসই কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পরিদর্শন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ মাহাদি হাসান বলেন, কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেটের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও এ বিষয়ে তাদের সচেতনতার ওপর। তাই নতুন এই বিনিয়োগব্যবস্থা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ জ্ঞান ও ধারণা থাকা জরুরি। বর্তমান শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখবেন। এ কারণে শিক্ষাজীবন থেকেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ মানেই শুধু শেয়ার বা সিকিউরিটিজ কেনাবেচা—এমন প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ), বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ পণ্য সম্পর্কে জানতে হবে এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় সেগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সিএসইর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ও সার্ভিল্যান্স বিভাগের প্রধান আরিফ আহমেদ বলেন, পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে পেশাগত দক্ষতা ধরে রাখতে হলে নিয়মিত নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যে বিষয়েই পড়াশোনা করুন না কেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো জরুরি।
আইআইইউসির অধ্যাপক নাজনীন জাহান চৌধুরী বলেন, ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগ, শেয়ারবাজার এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বাজার পরিচালনার প্রক্রিয়া, বিনিয়োগের নতুন পণ্য এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে সহায়ক হবে।
সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুল হক বলেন, ভবিষ্যতে যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের এখন থেকেই বাজার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাজার পর্যবেক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে প্রচলিত বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য মুনাফা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সিএসইর উদ্যোগে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এবং এ পর্যন্ত অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
সিএসইর হেড অব ট্রেনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস এম সাদেক আহমেদ অধিবেশনটি পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি শেয়ারবাজারের সামগ্রিক কার্যক্রম এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবহারিক পরিচালনা নিয়ে উপস্থাপনা দেন।
অনুষ্ঠানে সিএসইর পক্ষে মোহাম্মদ মাহাদি হাসান ও আরিফ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আইআইইউসির প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক নাজনীন জাহান চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক ড. নাজিম উল্লাহ।


