অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৪৯ পয়েন্ট হারিয়েছে। তবে সূচকের পতনের বিপরীতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৭টির দর কমেছে, বেড়েছে ৬৮টির এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দর কমার তালিকায় ছিল লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৮ দশমিক ৯০ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২৮৪ দশমিক ৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। এদিন ডিএস৩০ সূচক ২০ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ২১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমেছে। একইভাবে ডিএসইএস সূচক ৭ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩০ দশমিক ২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, লেনদেনের পরিমাণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দিনটিতে ডিএসইতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫টি ট্রেডের মাধ্যমে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৮৬টি শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার। সেই হিসাবে এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
ক্যাটাগরিভিত্তিক লেনদেনের চিত্রেও দরপতনের প্রবণতা স্পষ্ট। ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৪টির দর কমেছে, বেড়েছে ২৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টির দর কমেছে, ১১টির বেড়েছে এবং চারটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।‘জেড’ ক্যাটাগরির ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮টির দর কমেছে, বেড়েছে ৩১টির এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ ছাড়া ৩২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২২টির দর কমেছে, একটির বেড়েছে এবং নয়টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরির একটি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। করপোরেট বন্ডের চারটির মধ্যে দুটির দর কমেছে এবং দুটির অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন সরকারি সিকিউরিটিজে কোনো লেনদেন হয়নি।সামগ্রিকভাবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও দরপতনের বিস্তৃতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপের চিত্র তুলে ধরেছে।


