অর্থজগত প্রতিবেদন
তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবির মধ্যে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর)। পূর্বনির্ধারিত সময় বিকেল ৩টার পরিবর্তে সভাটি বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বার্তায় সভার সময় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে সভাটি বিকেল ৩টায় আয়োজনের কথা ছিল।
শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নতুন এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কিছু কারখানা বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ নির্ধারিত ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এ মজুরি নির্ধারণ করা হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রথম সভা আয়োজন এবং নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মতামতের সমন্বয় এবং বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ, শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।


