মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬

শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ল আরও এক বছর

অর্থজগত প্রতিবেদন

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা ও তারল্যসংকট মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর গঠিত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে বাজারে তারল্যপ্রবাহ বজায় রাখা এবং ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত তারল্যের অভাব বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বৃদ্ধি ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেবে।

করোনা মহামারির সময় শেয়ারবাজারে তীব্র তারল্যসংকট মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ তহবিল গঠনের নীতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নীতির আওতায় প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো সুবিধা নিয়ে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে।

এ তহবিলের অন্যতম সুবিধা হলো, এর আওতায় শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত শেয়ারবাজার এক্সপোজার সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে নিয়মিত বিনিয়োগসীমার অতিরিক্ত অর্থও এ বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু তহবিলের মেয়াদ বাড়ানো যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষ তহবিলের আকার বাড়ানোরও দাবি উঠেছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে তহবিল সুবিধার মেয়াদ ২০২৭ সালের পরিবর্তে ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বিনিয়োগ ও তারল্যপ্রবাহে সহায়ক হতে পারে। তবে দেশের শেয়ারবাজারের দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত সংস্কার। এ জন্য ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তাঁদের অভিমত, বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, তহবিল ব্যবহারের আগ্রহ এবং শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর। ফলে এ উদ্যোগকে বাজার পুনরুদ্ধারের সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান জরুরি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বাধিক পঠিত