সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
Home Blog Page 3

জাপানে পোশাক রফতানিতে চার বছরের রেকর্ড

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক অর্থবছর ধরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানিতে জাপানের অংশ প্রায় ৩ শতাংশের আশপাশে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অংশ। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান বলছে, জাপানের পোশাক আমদানির বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হলেও এ অগ্রগতি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে জাপানে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের বাজারে রফতানির অংশ দাঁড়ায় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি। বরং কখনো প্রবৃদ্ধি, কখনো পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এ খাত। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপানে ১১৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছিল বাংলাদেশ। পরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানিতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র দেখা যায়। ওই অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এ প্রবৃদ্ধি পরবর্তী অর্থবছরেও অব্যাহত থাকেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে পোশাক রফতানি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

একই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রফতানিতেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে নেমে আসে। এর ফলে মোট রফতানিতে জাপানের অংশ কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের বাজারের অংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছানোকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের পোশাক রফতানির পাশাপাশি জাপানের সামগ্রিক আমদানিবাজারের আকারও দেশটির গুরুত্ব তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।

পরবর্তী এক বছরে দেশটির পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে এরপর থেকে আমদানিতে পুনরুদ্ধারের প্রবণতা দেখা যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানের পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। অর্থাৎ, এক বছরের পতনের পর দেশটির পোশাক আমদানির বাজারে পুনরায় প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে জাপানের সামগ্রিক পোশাক আমদানি বাড়লেই বাংলাদেশের রফতানি সমান হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দেশটির আমদানিবাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়াতে হলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ, ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির অংশ চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে একটি প্রান্তিকের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। আগামী প্রান্তিকগুলোতেও রফতানির এ ধারা বজায় থাকে কি না, সেটিই হবে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

ঋণাত্মক জীবন তহবিলে ছয় বীমা কোম্পানি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের জীবন বীমা খাতে আর্থিক সংকট ও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছয়টি জীবন বীমা কোম্পানির লাইফ ফান্ড বা জীবন তহবিল ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির জীবন তহবিলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, পুরো জীবন বীমা খাতে বকেয়া বীমা দাবির পরিমাণ ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে খাতটির আর্থিক দুর্বলতার এমন চিত্র। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জীবন বীমা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো লাইফ ফান্ড। পলিসি গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়ামের অর্থ থেকে নির্ধারিত ব্যয় ও অন্যান্য দায় সমন্বয়ের পর ভবিষ্যতের বীমা দাবি পরিশোধের জন্য যে তহবিল সংরক্ষণ করা হয়, সেটিই জীবন তহবিলের মূল ভিত্তি। এ তহবিল ঋণাত্মক হয়ে পড়লে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে মেয়াদপূর্তির অর্থ ও অন্যান্য বীমা দাবি পরিশোধে পর্যাপ্ত সম্পদ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, জীবন তহবিলে সবচেয়ে বড় ঘাটতিতে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঘাটতি ৩২৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, শান্তা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৯৪ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

এই হিসাব থেকে স্পষ্ট, সংকটটি কেবল একটি কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের জীবন তহবিল ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছানো খাতটির সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক তদারকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিপুল ঘাটতি পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বকেয়া বীমা দাবির বড় বোঝা ফারইস্টের

জীবন তহবিলের ঘাটতির পাশাপাশি গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতাও খাতটির বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে জীবন বীমা খাতে মোট অনাদায়ী বা বকেয়া বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের। অর্থাৎ, পুরো খাতের বকেয়া দাবির প্রায় ৭৫ শতাংশই আটকে আছে কোম্পানিটির কাছে।

বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘদিন আটকে থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেকেই জীবনের সঞ্চয় দিয়ে বীমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা অবসরকালীন প্রয়োজন মেটানোর আশায়। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরও অর্থ না পাওয়ায় সেই প্রত্যাশা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে গ্রাহকদের আর্থিক পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও দুর্বল হচ্ছে।

বীমা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রাহককে সুরক্ষা দেওয়া। অথচ পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পাওনা অর্থ না পেলে সেই সুরক্ষার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে কোনো কোম্পানির কাছে বিপুল পরিমাণ দাবি দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকলে নতুন গ্রাহক সংগ্রহ এবং পুরো খাতের ব্যবসায়িক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গ্রাহকদের আটকে থাকা অর্থ ফেরত দিতে আইডিআরএ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনটি ধাপে মোট ১৬ হাজার ৫৮ জন গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর তৃতীয় ধাপে ছয়টি বীমা কোম্পানির ৭ হাজার ৬৪১ জন গ্রাহকের অনুকূলে ২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হয়। এর আগে প্রথম দুই ধাপে ৮ হাজার ৪১৭ জন গ্রাহককে দেওয়া হয়েছিল ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বকেয়ার তুলনায় অর্থ পরিশোধের পরিমাণ অত্যন্ত কম। মার্চ শেষে বকেয়া দাবির পরিমাণ ৪ হাজার ৪১০ কোটি টাকা ধরে হিসাব করলে বিতরণ করা ৬৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা মোট বকেয়ার মাত্র ১ দশমিক ৪৫ শতাংশের সমান। ফলে এই উদ্যোগে কিছু গ্রাহক তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেও সামগ্রিক সংকট নিরসনে আরও বড় পরিসরে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বকেয়া দাবির বিপুল পরিমাণ এবং জীবন তহবিলের ঘাটতি বিবেচনায় শুধু ধাপে ধাপে সীমিত অর্থ বিতরণ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত সম্পদ, দায় এবং বিনিয়োগের অবস্থা পর্যালোচনা করে অর্থ পরিশোধের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতের সংকট মোকাবিলায় প্রথমেই কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে হবে। কাগজে-কলমে দেখানো সম্পদ এবং বাস্তবে নগদায়নযোগ্য সম্পদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের দায় মেটানোর জন্য কোম্পানিগুলোর হাতে কী পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ রয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি কিংবা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের দায় যেন শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর গিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব।

তৃতীয়ত, বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কোন কোম্পানি কত টাকা, কত সময়ের মধ্যে এবং কী প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হলে গ্রাহকেরা অন্তত তাঁদের পাওনা ফেরতের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। পাশাপাশি নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ ও তদারকির মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বীমা খাতের এই সংকট শুধু কয়েকটি কোম্পানির হিসাবের ঘাটতি নয়; এটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গ্রাহকদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে বীমার প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। বীমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথম শর্তই হচ্ছে—গ্রাহকের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং সেই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আইপিওতে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধ ১৪ টেক্সটাইল কারখানা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেও উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি দেশের একাধিক টেক্সটাইল কোম্পানি। একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের সময় আর্থিক তথ্য যাচাই, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কিছু কোম্পানি মুনাফার অতিরঞ্জিত তথ্য ও অসংগতিপূর্ণ আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করে শেয়ার বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছিল। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, দুর্বল হয়েছে বাজারের ওপর আস্থা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ১৬টি টেক্সটাইল কোম্পানি মোট ২ হাজার ২০১ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ, বাজার থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বড় একটি অংশ তাদের শিল্পকারখানার কার্যক্রম সচল রাখতে পারেনি।

শুধু নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোই নয়, সামগ্রিকভাবে টেক্সটাইল খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। ডিএসইর ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, শেয়ার বাজারে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া ৩৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ১৪টিই টেক্সটাইল খাতের। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ৫৮টি টেক্সটাইল কোম্পানির মধ্যে ১৪টির কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। এ ছাড়া আরও ২৮টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকট ও অনিয়মের কারণে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

শেয়ার বাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হওয়া কোনো কোম্পানির আর্থিক ও পরিচালনাগত দুর্বলতার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সাধারণত টানা দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়া, নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন না করা, ছয় মাসের বেশি সময় কারখানা বন্ধ থাকা কিংবা পরিশোধিত মূলধনের তুলনায় সঞ্চিত লোকসান বেশি হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কোম্পানিকে এ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। ফলে টেক্সটাইল খাতের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের এ অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়া অনেক টেক্সটাইল কোম্পানি বাজারে আসার সময় প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন মুনাফা ও আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করেছিল। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যকর স্থায়ী কারখানা না থাকার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তালিকাভুক্তির সময়কার নথি পর্যালোচনা করা হলে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কিছু দুর্বল টেক্সটাইল কোম্পানি মূলত শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব কোম্পানিকে অনুমোদন দিয়েছিল। এ ধরনের অনিয়মের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পায়।

একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো এবং কয়েকটি কোম্পানির দুর্বল আর্থিক বিবরণী সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেগুলোকে তালিকাভুক্তির অনুমতি দিয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক দুর্বল পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নয়, সামগ্রিক শেয়ার বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তির নিয়মে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার এবং তদারকি বাড়ানোর ফলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে শুধু তালিকাভুক্তির সময়কার অনিয়ম বা দুর্বল ব্যবস্থাপনাই দায়ী নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এক কর্মকর্তার ব্যাখ্যায়, কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা উৎপাদন কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলতি মূলধনের সংকট। কাঁচামাল কেনা, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ, জ্বালানি ব্যয় নির্বাহ এবং নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ঋণের দায়, সুদ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করতে হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ফলে যেসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি আগে থেকেই দুর্বল ছিল, তাদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকার বন্ধ ও নিষ্ক্রিয় শিল্পকারখানা পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিলের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর সুবিধা পাওয়া নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ব্যাংকগুলোর কঠোর ঋণশর্ত এবং অর্থায়নে অনীহার কারণে অনেক উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ পাচ্ছেন না। অথচ পর্যাপ্ত চলতি মূলধন ও কার্যকর পুনর্বাসন সহায়তা ছাড়া বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করা এবং উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সটাইল খাতের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দুটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমত, অতীতে যেসব কোম্পানির আইপিও অনুমোদন ও তালিকাভুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর আর্থিক বিবরণী, তহবিল ব্যবহারের তথ্য এবং প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে কিন্তু জ্বালানি, কাঁচামাল ও অর্থায়ন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত—এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইপিও অনুমোদনের আগে কোম্পানির সম্পদ, উৎপাদন সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, ঋণের পরিমাণ, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও সংগৃহীত অর্থের সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।

টেক্সটাইল খাতের সংকট তাই কেবল কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুঁজি বাজারের জবাবদিহি, শিল্পায়নের টেকসই ভিত্তি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্ন। অতীতের অনিয়মের কার্যকর তদন্ত, তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে এ খাতের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটিয়ে চালু হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি সচল হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর এটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে রোববার সকালে এটি আবার চালু করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা কাজ করছেন। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় শনাক্ত হওয়া ত্রুটির কারণে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, একই প্রযুক্তিতে তৈরি আরও কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশও। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় তৈরি নয়। ফলে পিএইচপির এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ওই ওয়েবসাইটগুলো সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়।

তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে, কোনো ওয়েবসাইট নির্দিষ্ট একটি নিরাপত্তা ত্রুটির আওতামুক্ত হলেই সেটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করার সুযোগ নেই। নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, সার্ভারের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

এ কারণে বিজিডি ই-গভ সার্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণ যাচাই, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং ঝুঁকি বিবেচনায় সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হলে শুধু অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিই থাকে না, বরং গ্রাহকের তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা কিংবা পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নিরাপত্তার দুর্বলতা স্থায়ীভাবে দূর করা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, টানা তৃতীয় সপ্তাহে বাড়ল তেলের দাম

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের বিস্তার এবং সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর প্রভাবে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপের অর্থনীতি ও পুঁজি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম অন্তত ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আগের সপ্তাহে এ জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক বৃদ্ধি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তেলের এ দাম গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার এ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ অঞ্চলে সংঘাত বিস্তৃত হলে তেল উৎপাদন, পরিবহন ও রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার পরিচালন ব্যয় এবং পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, কারণ বাড়তি দামে তেল কিনতে তাদের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে।

এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ইউরোপের পুঁজি বাজারেও। দ্য আইরিশ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক স্টক্স ৬০০ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে যায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও সূচকটিতে তিন সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছিল। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে সপ্তাহজুড়ে ইউরোপের শেয়ারবাজারে দুর্বল প্রবণতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপের শিল্প ও পরিবহন খাতের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, রাশিয়ায় পেট্রল ও ডিজেলের উৎপাদন বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মজুতও বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি দেশটির জ্বালানি খাতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বিওকে ফাইন্যানশিয়াল সিকিউরিটিজের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলারের মতে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইরানে আরও তীব্র হামলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম বড় অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে তেলের সরবরাহে নতুন বাধা সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে আমদানিনির্ভর অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় ও পুঁজি বাজারে। তাই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তার এবং সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।

ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট নয়

অর্থজগত ডেস্ক

স্মার্টফোন ধীরগতিতে কাজ করলে বা হ্যাং হয়ে গেলে অনেকেই দ্রুত রিস্টার্ট করেন। এতে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধানও হতে পারে। তবে বারবার রিস্টার্ট করলেই যে ফোনের গতি বাড়বে, এমন নয়। বরং স্টোরেজের ঘাটতি, পুরোনো সফটওয়্যার, ব্যাটারির সমস্যা কিংবা হার্ডওয়্যারের ত্রুটির কারণে ফোন ধীরগতির হলে রিস্টার্টে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না।

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—উভয় ক্ষেত্রেই রিস্টার্টের মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেম নতুন করে চালু হয়। এ সময় চলমান অ্যাপ ও সাময়িক সিস্টেম প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। ফলে কোনো অ্যাপ আটকে গেলে, ফোনের স্ক্রিন অস্বাভাবিক আচরণ করলে কিংবা সাময়িক সফটওয়্যার ত্রুটি দেখা দিলে রিস্টার্ট কার্যকর হতে পারে। কিন্তু এটি ফোনের প্রসেসরের ক্ষমতা বাড়ায় না কিংবা সব ধরনের সমস্যার সমাধান করে না।

ফোনের গতি কমে গেলে প্রথমেই এর স্টোরেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ছবি, ভিডিও ও অপ্রয়োজনীয় ফাইলের কারণে জায়গা কমে গেলে অ্যাপ চালানো এবং বিভিন্ন সিস্টেম প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মেমোরি ব্যবহারকারী অ্যাপ, পুরোনো সফটওয়্যার এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়াও ফোনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো মডেলের ফোনে আধুনিক ও ভারী অ্যাপ ব্যবহারের সময় ধীরগতি বেশি অনুভূত হতে পারে।

ফোনের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে পর্যাপ্ত স্টোরেজ খালি রাখা, অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করা এবং অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময় ফোন ধীর হয়ে গেলে সেটি আপডেট করা বা অ্যাপের ক্যাশ পরিষ্কার করেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে ক্যাশ পরিষ্কার করার সঙ্গে অ্যাপের সব ডেটা মুছে ফেলার পার্থক্য রয়েছে, তাই সেটিংস পরিবর্তনের আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাধারণভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন রিস্টার্ট করলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিস্টার্ট করতেই হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই। কোনো সমস্যা দেখা দিলে একবার রিস্টার্ট করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এরপরও ফোন বারবার হ্যাং করলে বা ধীরগতির সমস্যা অব্যাহত থাকলে ব্যাটারি, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের অবস্থা পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

মূল কথা, রিস্টার্ট সাময়িক সফটওয়্যার সমস্যা কাটাতে সহায়তা করে, কিন্তু ফোন ধীরগতির হওয়ার সব কারণ দূর করতে পারে না। তাই বারবার রিস্টার্ট না করে সমস্যার উৎস শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতা বজায় রাখার কার্যকর উপায়।

লন্ডন ব্রিজ চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ‘দেলুপি’

০

অর্থজগত ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের পর এবার লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একের পর এক উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে। নতুন এই আমন্ত্রণ ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় যুক্ত করেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

‘দেলুপি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন চিরনজিৎ বিশ্বাস। তিন দিন আগে পাওয়া এই অর্জনের রেশ কাটতে না কাটতেই লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে এসেছে নতুন সুখবর। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় বাস্তবতা ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে নিজেদের গল্প তুলে ধরার আরও একটি সুযোগ পাচ্ছে।

নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির প্রদর্শনীর খবর জানান। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘দেলুপি’। তবে নির্মাতা ও ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই ওই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এ কারণে লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দলবদ্ধভাবে উৎসবে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছবিটি উপভোগ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিসরে একাধিকবার জায়গা করে নিয়েছে ‘দেলুপি’। নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। এ ছাড়া ইতালির কারাভান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রশংসা পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের উৎসবে অংশগ্রহণ এবং অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করছে।

‘দেলুপি’র বিশেষত্ব এর গল্পের বিষয়বস্তু ও নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ২০২৪ সালে খুলনা অঞ্চলে নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সে সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের অভিজ্ঞতার মতো বিষয় চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষেরাও অভিনয় করেছেন। ফলে গল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনপদের মানুষ ও বাস্তবতার একটি নিবিড় সংযোগ তৈরি হয়েছে।

চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে ছবিটি। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরনজিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায়, জাকির হোসেনসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একটি ছবির অংশগ্রহণ কেবল নির্মাতার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর মাধ্যমে দেশের গল্প, সমাজবাস্তবতা ও সংস্কৃতিও বৃহত্তর দর্শকসমাজের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সেই বিবেচনায় ‘দেলুপি’র ধারাবাহিক উৎসবযাত্রা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। খুলনা অঞ্চলের নির্দিষ্ট সময়ের সংকট ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমা আন্তর্জাতিক পরিসরে কতটা সাড়া জাগাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।

লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘দেলুপি’র সামনে খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে চিরনজিৎ বিশ্বাসের সেরা অভিনেতার পুরস্কারজয় এবং এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ছবিটির পরিচিতি আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের আহ্বান চলচ্চিত্রটির সঙ্গে দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

 

মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় অক্ষত রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। হামলায় কেউ হতাহত হননি।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোরে মগবাজার এলাকায় আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে সে সময় গাড়িতে আসিফ আকবর উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আসিফ আকবর দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য কিংবা এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে পরীমণির জন্মদিনের সূচনা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সময়ে জমকালো আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করে আলোচনায় এলেও এবার বিশেষ দিনটির সূচনা করেছেন একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে। পাশে ছিল তাঁর দুই সন্তান ছেলে পূণ্য ও মেয়ে প্রিয়ম। সন্তানদের ভালোবাসা আর স্নিগ্ধ উপস্থিতিতে জন্মদিনের প্রথম প্রহর কাটিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) পরীমণির জন্মদিন। দিনটি শুরু হওয়ার মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের খোলা গাউন পরে হাসিমুখে জন্মদিনের কেক কাটছেন অভিনেত্রী। এ সময় তাঁর দুই সন্তানও পাশে ছিল। কেকের ওপর জ্বলছিল মোমবাতি, আর মাকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছিল দুই শিশু।

জন্মদিনের এই আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কেক কাটার সময় সন্তানদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ। পূণ্য ও প্রিয়মকে মাকে চুমু দিয়ে আদর করতে দেখা যায়। সন্তানদের এমন স্নেহমাখা উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগের মিশেলে এক পারিবারিক মুহূর্ত।

ভিডিওটির ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছেন, ‘হ্যাপি বার্থডে টু মি!’ সঙ্গে দিয়েছেন লাল হৃদয় ও ফুলের ইমোজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে নানা চড়াই-উতরাই, প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন পরীমণি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে সন্তানদের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। জন্মদিনের প্রথম প্রহরের এই আয়োজনেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। জাঁকজমকের পরিবর্তে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাদের ভালোবাসায় দিনটি শুরু করাই যেন এবার তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।

এর আগে বিভিন্ন বছর দেশ-বিদেশে জমকালো আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করে আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী। সাজসজ্জা, অতিথি সমাগম ও ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। তবে এবারের জন্মদিনের সূচনায় ছিল না তেমন কোনো আড়ম্বর। বরং পরিবারের ছোট্ট পরিসরে সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্যই হয়ে উঠেছে উদযাপনের মূল আকর্ষণ।

পরীমণির জন্মদিনের এই মুহূর্তটি তাই কেবল একজন তারকার জন্মদিন উদযাপনের ঘটনা নয়; বরং সন্তানদের ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ ও ভালোবাসারও একটি প্রকাশ। ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ভিডিওতে সেই আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট। জমকালো আয়োজনের বদলে দুই সন্তানের সান্নিধ্যে জন্মদিন শুরু করে পরীমণি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তুলতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না—প্রিয়জনের ভালোবাসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম ঋণের চাপে বাংলাদেশ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে সরকারি ঋণের হার দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশে থাকতে পারে। বিপরীতে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে এ হার ৭০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশেরও বেশি। তবে ঋণের অনুপাত কম থাকলেই অর্থনীতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত—এমনটি বলা যায় না। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, রাজস্ব আয় এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের দক্ষতাও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে ভারতে এ হার ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৯৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানে ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে ঋণের অনুপাত প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারি ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের আকার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তবে ঋণের অনুপাতের এই ব্যবধান দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিচার করা সম্ভব নয়। সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে রাজস্বের কত অংশ ব্যয় হচ্ছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান কতটা পর্যাপ্ত এবং সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য কেমন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা, উন্নয়ন ব্যয়ের চাহিদা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় নিয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত কম থাকার একটি সুবিধা হলো, প্রয়োজনের সময় সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নীতিগত সুযোগ পেতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ঋণ নিয়ে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, যেগুলো দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যয়ের অদক্ষতা ঋণের সুফল কমিয়ে দিতে পারে। কোনো প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত আয় বা অর্থনৈতিক সুফল না মিললেও ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের দায় সরকারকে বহন করতে হয়। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো। কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকলে উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং অপ্রদর্শিত আয় ও সম্পদ শনাক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে সীমিত সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ফলে ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ঋণপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বিনিময় হার দুর্বল হলে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যায়। তাই ঋণের উৎস, সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রাঝুঁকি বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সতর্ক ঋণনীতি অনুসরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জিডিপির অনুপাতে সরকারি ঋণ তুলনামূলক কম থাকা দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অবস্থান তৈরি করেছে। তবে এই সুবিধা ধরে রাখতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের অনুপাত কম হলেও এটিকে আত্মতুষ্টির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এ অবস্থানকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ঋণ গ্রহণের পরিমাণের চেয়ে ঋণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যৎ আয় ও উৎপাদন বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখছে—সেই বিবেচনাই বাংলাদেশের টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।