সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
Home Blog Page 8

টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ

০

অর্থজগত ডেস্ক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। আবুধাবিতে টেস্ট ম্যাচে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই ডানহাতি বোলার।
হ্যাটট্রিকের পথে প্রথমে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন হাসান। পরের বলে কায়েস আহমদের ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগলে উইকেটরক্ষক লিটন দাস ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি তালুবন্দি করেন। এরপর জিয়া-উর-রহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পদ্ধতি বা ডিআরএসের সহায়তায় আউটটি নিশ্চিত হলে পূর্ণ হয় তাঁর ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক। টানা তিন উইকেট নেওয়ার এই কৃতিত্ব অর্জনের সময় কোনো রান দেননি তিনি।
হাসানের এই অর্জন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের অগ্রযাত্রারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটে উইকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে স্পিনারদের ওপর নির্ভরতা বেশি ছিল। বিশেষ করে ধীরগতির ও নিচু বাউন্সের উইকেটে স্পিনাররাই ছিলেন বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা। তবে সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে এসেছে পরিবর্তন। এখন দেশের বাইরের প্রতিকূল পরিবেশেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ সৃষ্টি করার সামর্থ্য দেখাচ্ছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় হাসান মাহমুদের। অল্প সময়ের মধ্যেই শৃঙ্খলাপূর্ণ বোলিং, বলের দিক পরিবর্তন এবং গতির তারতম্য ঘটানোর দক্ষতা দিয়ে নজর কাড়েন তিনি। চাপের মুখেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করার সামর্থ্য তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলারে পরিণত করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। এবার টেস্টে হ্যাটট্রিক করে নিজের ক্যারিয়ারে যুক্ত করলেন আরও একটি স্মরণীয় অর্জন।
টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের ঘটনা বিরল। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন। তাঁদের পর এই তালিকায় যুক্ত হলেন হাসান মাহমুদ। তবে আগের দুজনের মতো স্পিনার নন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে টানা তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে ওয়াসিম আকরাম, কোর্টনি ওয়ালশ, গ্লেন ম্যাকগ্রা, স্টুয়ার্ট ব্রড ও জাসপ্রিত বুমরাহর মতো তারকা পেসাররা টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছেন। তাঁদের সঙ্গে একই অর্জনের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া হাসানের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বীকৃতি। পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াসিম আকরাম টেস্ট ক্রিকেটে দুবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
হাসান মাহমুদের এই সাফল্য তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের বিকাশকেও তুলে ধরে। টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে দেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি তাঁকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্মরণীয় অর্জনগুলোর একটির অংশ করে রাখবে।

ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন

০

অর্থজগত ডেস্ক
জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। ৩৪ বছর বয়সে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মিটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রতিনিধি ও ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ। প্রতিনিধির এক বিবৃতিতে তাঁকে অভিনেতা, সমাজসেবী এবং প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার একজন ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেতার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। ক্যামেরন কাউন্টির জাস্টিস অব দ্য পিস সিন্ডি হিনোজোসা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ১২ অক্টোবর মিটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি তাঁর নিজের বাড়িতে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রায়ান ক্র্যানস্টন ও অ্যারন পল অভিনীত এমি-জয়ী ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান মিটি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচটি সিজনে প্রচারিত সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। বাস্তব জীবনেও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই পর্দায় চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন এই অভিনেতা। এ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।
সিরিজটিতে ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে মিটির অভিনয় ছিল গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যানসারে আক্রান্ত এক রসায়ন শিক্ষকের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা থেকে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ার কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ‘ব্রেকিং ব্যাড’। মাদক ব্যবসার অন্ধকার জগতে ওয়াল্টার যত গভীরে প্রবেশ করেন, ততই তাঁর সঙ্গে ছেলে ওয়াল্টার জুনিয়রের দূরত্ব বাড়তে থাকে। চরিত্রটির রসবোধ, ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং বাবার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ-অভিমান দর্শকদের মধ্যে আলাদা আবেদন তৈরি করেছিল।
মিটির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিরিজটির অন্যতম প্রধান অভিনেতা অ্যারন পল। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ জেসি পিঙ্কম্যান চরিত্রে অভিনয় করা পল হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রয়াত সহকর্মীকে বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর ভাষায়, মিটির অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের জীবনকে পর্দায় আরও বৈচিত্র্যময়ভাবে তুলে ধরার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মিটি। ইউনাইটেড সেরেব্রাল পালসি ও শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের মতো প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সমাজসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা করতে গড়ে তোলেন ‘দ্য মিটি ফাউন্ডেশন’।
লুইজিয়ানায় বেড়ে ওঠা মিটি ২০০৫ সালে পরিবারের সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে যান। তাঁর ছোট বোনের অভিনয়জীবনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পরিবারটির এই যাত্রা হলেও সেখানেই তাঁর নিজের অভিনয়জীবনের পথ তৈরি হয়। কিশোর বয়সে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর জন্য অডিশন দেন তিনি এবং পরে ওয়াল্টার জুনিয়র চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
অভিনেতার নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে চরিত্রটির মিল থাকলেও পর্দায় সেরেব্রাল পালসির বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সিরিজটির স্রষ্টা ভিন্স গিলিগানের এক প্রয়াত বন্ধুর অভিজ্ঞতা থেকে চরিত্রটি নির্মাণের ধারণা এসেছিল। ওই বন্ধুও সেরেব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং চলাফেরার জন্য ক্রাচ ব্যবহার করতেন।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর বাইরেও টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন মিটি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘হান্নাহ মন্টানা’, ‘সুইচড অ্যাট বার্থ’ ও ‘ওয়েস্টহ্যাম্পটন’। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ প্রকল্প ‘টকিং টু স্ট্রেঞ্জার্স’ চলতি বছরের শুরুতে মুক্তি পায়।
ভিন্স গিলিগানের নির্মিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’ টেলিভিশন ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সিরিজগুলোর একটি। মোট ৫৮টি প্রাইমটাইম এমি মনোনয়ন পাওয়া সিরিজটি জিতেছে ১৬টি পুরস্কার। এর মধ্যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আউটস্ট্যান্ডিং ড্রামা সিরিজের পুরস্কারও রয়েছে। সিরিজটির মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া মিটি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ন্যাশনাল ব্যাংককে সোনালীর ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে তারল্য সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। তিন মাস মেয়াদি এ ঋণের বিপরীতে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলেও সোনালী ব্যাংকের অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকছে। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান গতকাল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১০ শতাংশ সুদে ঋণটি দেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টি থাকায় এ ঋণে সোনালী ব্যাংকের আর্থিক ঝুঁকি নেই বলে মনে করছেন তিনি। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আশা, এ অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। তবে ঋণের অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
এদিকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন জানিয়েছেন, আমানত উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার গ্রাহক টাকা তোলার আবেদন করেছেন।
গ্রাহকদের সেবা নির্বিঘ্ন করতে সব শাখায় পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শাখাগুলোতে অর্থ পৌঁছানো এবং ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে তারল্য সহায়তা চান। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনাকে এমন ব্যবস্থা নিতে বলা হয়, যাতে গ্রাহকরা শাখা ও এটিএম বুথ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অগ্রাধিকার। কোনো গ্রাহক যাতে টাকা তুলতে গিয়ে ফেরত না যান, তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে সাম্প্রতিক এ ঋণসহায়তার পেছনে রয়েছে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের আর্থিক দুরবস্থা। ২০২২ সাল থেকে চার বছরে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট লোকসান প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি। ব্যাংকটির ঋণমানের অবস্থাও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়ে। বিপুল খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান ও তারল্য সংকট মিলিয়ে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত মাসে চার আমানতকারী তাঁদের জমা অর্থ ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এরপর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে তারল্য সহায়তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
দেশের পুরোনো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি ন্যাশনাল ব্যাংক কয়েক বছর ধরে তীব্র তহবিল সংকট মোকাবিলা করছে। সংকট সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন তারল্য সহায়তাও নিয়েছে। এবার সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার তাৎক্ষণিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, লোকসান কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে।

এলপিজির বাজারে সংকট, বাড়তি দামের চাপ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের খুচরা বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়েও কোথাও কোথাও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আবার কিছু এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, আমদানি অর্থায়নে জটিলতা এবং সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা মিলিয়ে এলপিজির বাজারে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। তবে এই সংকটের আড়ালে খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক বছরে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। অন্যদিকে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চাহিদা ও জোগানের ব্যবধান আরও বেড়েছে। ফলে আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির বাজারে সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।
আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও স্বস্তিদায়ক নয়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার বাজারে এলপিজি আমদানির খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণ ও অর্থায়ন পাওয়ার সীমাবদ্ধতা। ফলে চাহিদা থাকলেও সব প্রতিষ্ঠান আগের মতো নিয়মিত আমদানি করতে পারছে না। এতে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে।
আমদানি ব্যয় ও অর্থায়নের সংকট
এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহের পাশাপাশি দেশে আমদানি অব্যাহত রাখাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা কয়েকটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতার ওপর।
ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চিফ অপারেটিং অফিসার মাথেন্দ্র ডি যয়োশার ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি অর্থায়নে জটিলতা ও পরিচালনগত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত আমদানি চালু রেখেছে। তবে সামগ্রিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় তাদের বিদ্যমান সরবরাহ সক্ষমতার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি করলেও পুরো বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমদানি অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে আমদানিকারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা সংকট দীর্ঘায়িত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় বাড়ছে পরিবহন ব্যয়
এলপিজির সরবরাহ সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থার অস্থিরতাকেও দায়ী করছে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। আইগ্যাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংকটের কারণে জাহাজ চলাচল ও গন্তব্য পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়েছে। এ অঞ্চলে পণ্য আনতে আমদানিকারকদের বাড়তি প্রিমিয়ামও দিতে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলপিজি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফেরার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাব দেশের এলপিজি সরবরাহে আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি
এলপিজির বাজারে সংকটের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু কোনো কোনো খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে এর চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করে পণ্য বিক্রি করছে। তাদের আমদানি ও বিক্রিসংক্রান্ত নথিপত্রও যাচাই করা সম্ভব। আইগ্যাসের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তাদের আমদানি ও বিক্রির তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং এসব তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ আছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, বাজারে দাম নির্ধারণের বিষয়টি কোনো একক কোম্পানির হাতে নয়; নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারিত মূল্য সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য।
তবে আমদানিকারক পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্য অনুসরণের দাবি থাকলেও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগের নিষ্পত্তি জরুরি। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো ব্যবসায়ী বাড়তি অর্থ আদায় করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হলে তার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা ছাড়া ভোক্তার স্বার্থ সুরক্ষিত করা কঠিন।
সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি
এলপিজির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার পাশাপাশি অর্থায়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দুর্বলতাও বড় ঝুঁকি। পাইপলাইনের গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সেই অনুযায়ী আমদানি ও বিতরণব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানি অর্থায়ন সহজ করা, নিয়মিত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
সব মিলিয়ে, এলপিজির বাজারে স্বস্তি ফেরার বিষয়টি একক কোনো প্রতিষ্ঠানের আমদানি সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতা, আমদানি অর্থায়নের সুযোগ, পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং কার্যকর বাজার তদারকি—এই চারটি ক্ষেত্রেই অগ্রগতি প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে নির্ধারিত মূল্য থাকলেও ভোক্তাদের বাড়তি দামে সিলিন্ডার কেনার চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে -অর্থমন্ত্রী

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা শেষ করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস ধরে চলতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, চলমান কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংস্থাটির সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গেও বিশ্বব্যাংক একমত।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এই বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত এবং দেশের পাশে থাকতে আগ্রহী।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকও বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। দুই পক্ষের প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস নিয়ে বিতর্কে যেতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব-নিকাশ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব প্রক্ষেপণ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, সেগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

প্রবৃদ্ধি ৩.২%, মূল্যস্ফীতি ১০.৯%

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
লতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় চার দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে উঠে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির নতুন প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.২ শতাংশ। অন্যদিকে, গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০.৯ শতাংশে। অর্থনীতির এই দুই সূচকের বিপরীতমুখী গতিপথ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও) প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির প্রক্ষেপণ বাড়ানো হয়েছে কয়েক ধাপ। ফলে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চার দশকের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা
আইএমএফের পূর্বাভাস সত্যি হলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি গত প্রায় ৩৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩.১১ শতাংশ। এরপর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এত কম প্রবৃদ্ধির নজির পাওয়া যায়নি। এমনকি করোনা মহামারির অভিঘাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার সময় ২০১৯-২০ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৫ শতাংশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রবৃদ্ধির ধারাও অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৫ শতাংশ, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে ৩.৬ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৩.২ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা করা হয়েছে।
এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৩ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল আইএমএফ। পরে জুলাইয়ে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.৫ শতাংশ করা হয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা আরও ০.৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির মূল্যায়নে ধারাবাহিক অবনতি ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসেও ব্যবধান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীর পূর্বাভাসও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশ্বব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস ৪ শতাংশ। এর বিপরীতে আইএমএফের ৩.২ শতাংশের প্রক্ষেপণ দেশের অর্থনৈতিক গতি নিয়ে তুলনামূলক বেশি সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে পূর্বাভাসগুলোর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তিনটি সংস্থার মূল্যায়নেই অর্থনীতির সামনে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবৃদ্ধি কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতের সম্প্রসারণ প্রত্যাশিত গতি না পেলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রবৃদ্ধি কমলেও কমছে না মূল্যস্ফীতির চাপ
অর্থনীতির জন্য আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী পূর্বাভাস। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশে উঠতে পারে। এপ্রিল মাসে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ হার ৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল। নতুন প্রক্ষেপণে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বেড়েছে ৪.৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে থাকলে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় কমে যায়। এতে ভোগব্যয় সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। উৎপাদন, পরিবহন, কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেলে উদ্যোক্তাদের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ঋণের ব্যয় ও বাজারে চাহিদার পরিস্থিতি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রবৃদ্ধির মন্থরতা পরস্পরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের সামনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ সচল রাখার চ্যালেঞ্জ থাকে। একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন আরও সংকুচিত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হয়। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ
আইএমএফের পূর্বাভাসে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ব্যবধানও স্পষ্ট হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ শতাংশ এবং ভুটানে ৬.৯ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে সীমিত থাকার আশঙ্কা করা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতির দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
প্রবৃদ্ধির এই ব্যবধানের পেছনে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, বিনিয়োগ, উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও নীতিগত পরিস্থিতির পার্থক্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করা।

সংস্কার ও অর্থায়ন নিয়ে বাড়ছে গুরুত্ব
ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠকের মধ্যে সংস্থাটির নতুন পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ অবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা কমানো, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, আর্থিক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা এবং সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো অর্থনীতির গতি ফেরানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আইএমএফের পূর্বাভাসই চূড়ান্ত ফল নয়; বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নীতিগত পদক্ষেপ এবং দেশি-বিদেশি অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চিত্র বদলাতে পারে। তা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো এবং মূল্যস্ফীতির প্রক্ষেপণ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে অর্থনীতির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট হয়েছে। এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য মূল প্রশ্ন হলো, কীভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফিরিয়ে আনা যায়।

 

মিউচুয়াল ফান্ডে লাইসেন্সধারী এজেন্ট চালুর উদ্যোগ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের পুঁজি বাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের পরিসর বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে লাইসেন্সধারী এজেন্ট চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা লাইসেন্স নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ পরিকল্পনার কথা জানান বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত সেমিনারটির আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, প্রশিক্ষণ ও সনদ গ্রহণের পর লাইসেন্সধারী এজেন্টরা মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এ খাতের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে চায় কমিশন।

মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, আগামী দিনে উন্মুক্ত বা ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, দেশটিতে লাইসেন্সধারী মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্টরা বিমা ব্রোকারদের মতো কাজ করেন। এ ধরনের এজেন্টভিত্তিক ব্যবস্থা ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।

তার মতে, মিউচুয়াল ফান্ডের পরিসর বাড়লে পুঁজি বাজারে পেশাদার শেয়ার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি শেয়ার কেনার পাশাপাশি বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যেসব বিনিয়োগকারীর পক্ষে নিজস্ব উদ্যোগে শেয়ার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা করা কঠিন, তাদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, পুঁজি বাজারের টেকসই উন্নয়নে শুধু বাজারের গভীরতা বাড়ালেই হবে না, বাজার মূলধন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য বৈচিত্র্যময় পণ্যও তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ পণ্যের সম্প্রসারণ জরুরি। এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পুঁজি বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে কমিশন।

পুঁজি বাজারের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও বিনিয়োগকারীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি শক্তিশালী এমন কোম্পানির শেয়ার বাছাই এবং বিনিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার পরামর্শও দেন তিনি।

বিএসইসির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সধারী এজেন্টদের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের বিপণন ও বিনিয়োগকারীদের সেবা দেওয়ার পরিসর বাড়তে পারে। এর ফলে পুঁজি বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রসার এবং বিনিয়োগের বিকল্প মাধ্যম জনপ্রিয় করার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন হল ও উডফোর্ড

০

অর্থজগত ডেস্ক
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাঁদের নাম ঘোষণা করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কিংবা দ্রুত প্রবৃদ্ধির সময়ে অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুদের হার, সরকারি ব্যয় ও মুদ্রানীতির কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। হল ও উডফোর্ডের গবেষণা অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

অর্থনৈতিক মন্দার সময় চাহিদা বাড়াতে সাধারণত সুদের হার কমানো এবং সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিপরীতে, মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে গেলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো কিংবা সরকারি ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের প্রভাবে বিংশ শতাব্দী থেকেই এ ধরনের স্থিতিশীলতামূলক নীতি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের পর পশ্চিমা অর্থনীতিগুলো যখন নিম্ন প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও ব্যাপক মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হয়, তখন প্রচলিত কেইনসীয় মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অর্থনীতির এমন জটিল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলাফল আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে।

সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা

অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র বুঝতে শুধু মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো সূচক বিশ্লেষণ করাই যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেসব সিদ্ধান্তের সম্মিলিত প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। হল ও উডফোর্ডের গবেষণায় অর্থনীতির সামগ্রিক গতিপ্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মানুষের সঞ্চয় ও ব্যয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয় সামগ্রিক চাহিদা, উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। এসব বিষয়কে অর্থনৈতিক মডেলে যুক্ত করার মাধ্যমে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাও প্রভাব ফেলে অর্থনীতিতে

হল ও উডফোর্ডের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার ভূমিকা। ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু বর্তমান আয়, ব্যয় কিংবা বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না; ভবিষ্যতে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেমন হতে পারে, সেটিও বিবেচনা করে।

এ কারণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ঘোষণা অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যৎ সুদের হার বা মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের সংকেত পেলে পরিবারগুলো ভোগ ও সঞ্চয়ের পরিকল্পনা বদলাতে পারে। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ, উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আনতে পারে।

নীতিনির্ধারণে এসব প্রত্যাশার ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হলে অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল প্রণয়ন সহজ হয়। জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে অর্থনীতির সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণেও এ ধরনের মডেল সহায়ক হতে পারে।

গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন অর্থনীতিবিদ

২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। উদ্ভাবন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়, সে বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস

সুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুসারে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে তিনি নিজের সম্পদের একটি অংশ এ পুরস্কারের জন্য বরাদ্দ করেন। শুরুতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তি—এই পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হতো।

পরবর্তী সময়ে অর্থনীতিতে পুরস্কার যুক্ত হয়। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্ভেরিয়েস রিক্সব্যাংক তাদের ৩০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। প্রথমবার অর্থনীতিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৬৯ সালে।

প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ কমিটি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে।

সৌদি-কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশ দুটির জ্বালানিবিষয়ক শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি সৌদি আরবভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের সঙ্গেও বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭) ফাঁকে গতকাল এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি, কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি এ ধরনের হামলার নিন্দা জানান এবং হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় সৌদি আরবের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সংহতির বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়েও সৌদি প্রতিনিধিকে অবহিত করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। জবাবে সৌদি আরবের সহকারী মন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সৌদি আরবের চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি আরবের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ ছাড়া বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা দেওয়া, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
অন্যদিকে কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা এবং বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি এবং সরবরাহের উৎস ও রুট বহুমুখী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের এ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং এসিডব্লিউএ পাওয়ারের বিনিয়োগ আগ্রহ বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়ানো ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকে কার্যকর বাস্তবায়নে রূপ দেওয়াই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

আইএমএফের সংস্কার শর্তে সমঝোতার আশা – অর্থমন্ত্রী

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির সংস্কার শর্ত বাস্তবায়নে সময় ও অগ্রাধিকারের বিষয় নিয়ে আলোচনা চললেও সংস্থাটির সঙ্গে বড় ধরনের নীতিগত মতপার্থক্য নেই বাংলাদেশের। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে সরকার। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান জটিলতা কাটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই কাঠামোর আওতায় আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা আরও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির শর্ত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু নির্দিষ্ট সংস্কার ইস্যুতে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ তৈরি না করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নিতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে ব্যয় বেড়েছে। এই চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়েও সরকার আশাবাদী। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও বিদ্যমান চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার বিষয়েও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চায় সরকার।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন ঘাটতি পূরণের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ব্যাংকিং খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হলেও দীর্ঘমেয়াদি এই চাহিদা শুধু রাষ্ট্রীয় তহবিল দিয়ে পূরণ করা কঠিন। ফলে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানতের পরিমাণ বাড়ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশের বাজারে নতুন করে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানো—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে চায় সরকার। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংস্কার বাস্তবায়নের গতি, অর্থায়নের প্রাপ্যতা এবং অর্থনীতির ওপর বিদ্যমান চাপ কতটা কমানো যায়, তার ওপর।