সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
Home Blog Page 12

সময়ের কথায়, মুখোমুখি

০

দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় উঠে আসবে সমসাময়িক বিষয়গুলোর নানা দিক। থাকবে প্রশ্ন, মতামত, বিশ্লেষণ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা। পাঠক ও দর্শকের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সহজ, তথ্যনির্ভর ও গভীরভাবে তুলে ধরার প্রত্যয়ে খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে আমাদের এই বিশেষ টক শো। সঙ্গে থাকুন।

সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ খুলবে না

০

অর্থজগত ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শর্তগুলো পূরণ করাকেই জলপথটি স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে ইরান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কাতারের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরানের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দীর্ঘ সময় ধরে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া টেনে নেওয়া কিংবা একতরফা কোনো দাবি ইরান মেনে নেবে না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে তেহরানের সামগ্রিক অবস্থান জানানো হয়েছে। তবে কিছু বিষয় এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো বাকি রয়েছে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য, মার্কিন প্রস্তাবের বড় অংশই আগের অবস্থানের কাছাকাছি, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। তবে এ মুহূর্তে তেহরানের প্রধান মনোযোগ পারমাণবিক আলোচনা নয়; বরং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—এমন খবরও নাকচ করেছেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা শুরু করেনি তেহরান।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যে নথি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে সাত দিনের একটি আস্থাবর্ধক প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও উন্নত সংস্করণে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই প্রক্রিয়ায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ থাকার কথা রয়েছে।
তবে আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্রম। দুই পক্ষের মধ্যে মূল মতপার্থক্য শর্তের বিষয়বস্তু নিয়ে নয়; বরং কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে এবং কোন পর্যায়ে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে।
রোববার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তেহরান কূটনীতির পথেই এগোতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশটি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে একদিকে হরমুজ প্রণালি খুলতে কূটনৈতিক শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তাও দিচ্ছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। জলপথটি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের বিক্ষোভ : নারী সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ

০

অর্থজগত ডেস্ক
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশকর্মীদের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে দিল্লি পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৩ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে তিন নারী সাংবাদিক কয়েকজন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেন। নয়াদিল্লি জেলা পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে পরবর্তী তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে পাঠিয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিযোগকারী তিন সাংবাদিকই ফ্রিল্যান্সার এবং বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবরের পরদিনও দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এক নারী সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকারী নারীদের আটক করার সময় সেখানে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন না। পুরুষ পুলিশ সদস্যরাই নারী আন্দোলনকারীদের আটক করছিলেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে এক পুলিশকর্মী তাকে ধাক্কা দেন এবং তার স্তনে হাত দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদ করার পর ওই পুলিশকর্মী সেখান থেকে সরে যান বলেও দাবি করেছেন ওই সাংবাদিক।
অন্য এক নারী ভিডিও সাংবাদিকও যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে অশোকা রোডে বিক্ষোভের ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আটক করার দৃশ্য ধারণের সময় পেছন থেকে তিনি আপত্তিকর স্পর্শ অনুভব করেন। তার অভিযোগ, কেউ যৌন উদ্দেশ্যে তাকে শরীরের সঙ্গে ঘষছিলেন। সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বেরিয়ে আসতে পারেননি। পরে ঘুরে কাছাকাছি এক পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবাদ করলেও ওই পুলিশ সদস্য গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে জড়ো হন। তারা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে তিন নারী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেন।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবর আন্দোলনকারীদের মধ্যে ১৫০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আইসার সভানেত্রী নেহা বোরা, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আগের দিন আটক হওয়ার পরও তারা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করায় ফের তাদের আটক করা হয়।
নারী সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগে এফআইআর দায়ের এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন বিক্ষোভের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। রোববারও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ফের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও নাগরিক অসন্তোষ, অন্যদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—দুই বিষয়েই দিল্লির পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাড়ছে আগ্রহ

০

অর্থজগত ডেস্ক
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (Mecca Joint Defense Agreement) যোগ দিতে ছয়টির বেশি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে নতুন কোনো দেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আগে বর্তমান তিন সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির মূল শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করাই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, চুক্তিটি পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর আওতায় নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়েও তিন দেশের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ছয়টির বেশি দেশ আগ্রহ দেখালেও চুক্তির কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে না। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। চুক্তিকে কার্যকর রূপ দিতে ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির অধীনে একটি স্থায়ী সচিবালয়, বিভিন্ন কমিটি ও ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করেন। সেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় আলোচনা হয়।
এ পরিস্থিতিতে চুক্তির আওতাধীন স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির উচ্চপর্যায়ের আরেকটি বৈঠক রিয়াদে বসার কথা রয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা অংশ নেবেন। সাম্প্রতিক হুথি হামলা এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্কে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইসহাক দারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাত রাজনৈতিকভাবে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে মক্কা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। ইরানের কর্মকর্তারা হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলেও দার জানিয়েছেন
চুক্তির ভবিষ্যৎ বিস্তারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এর আগে বলেছিলেন, এই উদ্যোগকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে আরও আঞ্চলিক দেশকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও জানিয়েছিলেন, কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং মিসরকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এখন শুধু একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা সমঝোতা নয়; এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সম্ভাব্য নতুন সদস্য এবং সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এটি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে এর প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং ভবিষ্যতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।

এআই ছবি চেনার সহজ উপায়

অর্থজগহ ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে যেমন বাস্তব ঘটনার ছবি রয়েছে, তেমনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবির সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। উন্নত এআই মডেলের কারণে এখন এমন বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করা সম্ভব, যা প্রথম দেখায় আসল না নকল—তা বোঝা কঠিন। বিশেষ করে কোনো ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে যাচাই ছাড়াই সেটি সত্য বলে ধরে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তবে ছবির কিছু সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করলে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবির সম্ভাব্য অসংগতি শনাক্ত করা যায়। যদিও কোনো একটি লক্ষণ দেখেই ছবিকে নকল বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
সবচেয়ে আগে নজর দেওয়া যেতে পারে হাত ও আঙুলে। এআই প্রযুক্তি আগের তুলনায় হাত তৈরিতে অনেক উন্নত হলেও জটিল ভঙ্গিতে এখনো ভুল হতে পারে। আঙুলের সংখ্যা, দৈর্ঘ্য, বাঁক, জোড়ার অবস্থান এবং হাতের স্বাভাবিক গঠন খেয়াল করা দরকার। একাধিক মানুষের হাত পরস্পরের সঙ্গে জড়ানো থাকলে অস্বাভাবিকতা বোঝার জন্য ছবিটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
এরপর দেখা যেতে পারে চোখ, কান ও মুখের গড়ন। দুই চোখের আকার বা দৃষ্টির দিকের মধ্যে অসামঞ্জস্য, মুখের দুই পাশের অস্বাভাবিক ভারসাম্য, কানের গঠনে অসংগতি কিংবা চুলের সঙ্গে মুখ বা কানের অংশ অস্বাভাবিকভাবে মিশে যাওয়ার মতো বিষয় সন্দেহের কারণ হতে পারে। একইভাবে চশমা, কানের দুল বা অন্য ছোট আনুষঙ্গিক জিনিসের গঠনও পরীক্ষা করা দরকার।
ছবির ভেতরের লেখা এআই ছবি শনাক্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। নতুন প্রজন্মের এআই মডেল আগের তুলনায় পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মত লেখা তৈরি করতে পারলেও কোথাও বানান ভুল, অর্থহীন শব্দ, অস্বাভাবিক অক্ষর বা বিকৃত লেখার উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। তাই দোকানের সাইনবোর্ড, পোস্টার, বইয়ের প্রচ্ছদ, বিলবোর্ড কিংবা গাড়ির নম্বরপ্লেটের মতো জায়গাগুলোতে বাড়তি নজর দেওয়া উচিত।
আলো ও ছায়ার সামঞ্জস্য থেকেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। ছবির বিভিন্ন ব্যক্তি ও বস্তুর ওপর আলো একই উৎস থেকে পড়ছে কি না, ছায়ার দিক এবং দৈর্ঘ্য স্বাভাবিক কি না—এসব দেখা যেতে পারে। যেমন, মুখের ওপর আলোর দিক একদিকে হলেও শরীর বা আশপাশের বস্তুর ছায়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে গেলে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এ ধরনের সামান্য অসংগতি দেখেই ছবিকে এআই-নির্মিত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বাস্তব ছবিতেও আলো, প্রতিফলন, ক্যামেরার অবস্থান বা সম্পাদনার কারণে কিছু পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
শুধু ছবির ভেতরের বৈশিষ্ট্য নয়, ছবিটির উৎসও যাচাই করা জরুরি। কোনো ছবি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়েছে, সেটি কত পুরোনো এবং ছবির সঙ্গে যে দাবি করা হচ্ছে তা অন্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে কি না—এসব খুঁজে দেখা উচিত। প্রয়োজনে রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে ছবিটির আগের সংস্করণ বা মূল উৎস খুঁজে বের করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরোনো কোনো বাস্তব ছবিকে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—ছবি দেখতে অস্বাভাবিক লাগলেই সেটি নকল, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে। কয়েক মাস আগে যে ধরনের হাত, চোখ বা লেখা দেখে কৃত্রিম ছবি শনাক্ত করা যেত, ভবিষ্যতের উন্নত মডেলে সেই ত্রুটি নাও থাকতে পারে। ফলে শুধু দৃশ্যগত অনুমানের ওপর নির্ভর করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
বিশেষ করে কোনো ছবি যদি রাজনীতি, ধর্ম, যুদ্ধ, সামাজিক উত্তেজনা বা কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছড়ায়, তাহলে যাচাইয়ের মাত্রা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ছবিটি কোথা থেকে এসেছে, কখন তোলা হয়েছে এবং ছবির সঙ্গে যুক্ত ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করার আগে তাই শুধু ছবির দৃশ্য নয়, ছবির উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে যুক্ত দাবিও যাচাই করা জরুরি। কারণ এআইয়ের যুগে একটি ছবি বাস্তব দেখালেই তা বাস্তব হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ছবির সত্যতা যাচাইয়ের সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো—চোখে দেখা দৃশ্যের পাশাপাশি ছবিটির পেছনের গল্পটিও যাচাই করা।

ভাইরাল নয়, টেকসই কনটেন্টেই আয়

অর্থজগত ডেস্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ, এরপর বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো মাধ্যমে আয়—এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায়ই চোখে পড়ে। এমন উদাহরণ দেখে অনেকের ধারণা তৈরি হয়, ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করলেই দ্রুত অর্থ উপার্জন সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। শুধু অনুসারী বা ভিউয়ের সংখ্যা বেশি হলেই আয় নিশ্চিত হয় না; বরং নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী তৈরি, মানসম্মত কনটেন্ট এবং আয়ের একাধিক উৎস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ শুরু করা অনেকেই একসঙ্গে নানা ধরনের বিষয় নিয়ে পোস্ট করেন। এতে কখনো কখনো অনুসারী বাড়লেও একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় না। ফলে পরে সেই দর্শকদের ধরে রেখে নিয়মিত আয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বিষয় বা ‘নিশ’ বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে কার্যকর কৌশল। প্রযুক্তি, রান্না, ভ্রমণ, খেলাধুলা, বই, শিক্ষা, ফ্যাশন কিংবা ঘর সাজানোর মতো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কনটেন্ট তৈরি করলে ওই বিষয়ে আগ্রহী দর্শক ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এই দর্শকরাই পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড সহযোগিতা কিংবা পণ্য ও সেবা বিক্রির সম্ভাব্য ক্রেতায় পরিণত হতে পারেন।
বর্তমানে দ্রুত দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভিডিও ছোট হওয়াই সাফল্যের একমাত্র শর্ত নয়। দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য ভিডিওর শুরুতেই মূল বিষয়টি তুলে ধরা জরুরি। দীর্ঘ ভূমিকা বা অপ্রয়োজনীয় অংশ এড়িয়ে শুরুতেই কোনো তথ্য, প্রশ্ন, সমস্যা বা আকর্ষণীয় দৃশ্য উপস্থাপন করলে দর্শক ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ে। একই সঙ্গে ভিডিওর শেষ পর্যন্ত দর্শক কতটা থাকছেন, সেটিও কনটেন্টের কার্যকারিতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
আয়ের ক্ষেত্রেও শুধু প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপননির্ভর হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি প্রতিষ্ঠিত কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্র্যান্ড সহযোগিতা, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল পণ্য বিক্রি, অনলাইন কোর্স বা পরামর্শসেবা এবং নিজের পণ্য বা সেবা প্রচারের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক অনুসারীর চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে আগ্রহী ছোট কিন্তু সক্রিয় দর্শকগোষ্ঠী বেশি মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। কারণ নির্দিষ্ট শ্রেণির দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের কাছে সেই কনটেন্ট নির্মাতার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়ে।
একই কনটেন্টকে একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করাও সময় ও শ্রম বাঁচানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি। একটি মূল ভিডিও থেকে ফেসবুকের জন্য ভিডিও, ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা অন্য প্ল্যাটফর্মের উপযোগী সংক্ষিপ্ত সংস্করণ তৈরি করা যায়। এতে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য আলাদা করে সম্পূর্ণ নতুন কনটেন্ট তৈরির প্রয়োজন কমে যায়। একইসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগও তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ডও নতুন দর্শক পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কোনো বিষয় হঠাৎ আলোচনায় এলে সেটিকে কেন্দ্র করে দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করলে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের আগ্রহ পাওয়া যায়। তবে জনপ্রিয় কনটেন্ট হুবহু নকল করা দীর্ঘমেয়াদে সুফল দেয় না। বরং আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ, তথ্য বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করলে কনটেন্টে আলাদা পরিচয় তৈরি হয়। এতে কপিরাইট ঝুঁকিও কমে এবং দর্শকের কাছে নির্মাতার নিজস্ব বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে ওঠে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত সাফল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দর্শকের আচরণ বিশ্লেষণ করা। কোন ভিডিওতে দর্শক বেশি সময় থাকছেন, কোন পোস্ট বেশি শেয়ার হচ্ছে, কোথায় মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া বেশি আসছে এবং কোন ধরনের কনটেন্ট বারবার ভালো ফল দিচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী কনটেন্টের বিষয় ও উপস্থাপনার ধরন নির্ধারণ করলে অযথা সময় ব্যয় কমে এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তবে দ্রুত আয়ের আশায় কৃত্রিমভাবে অনুসারী বা ভিউ কেনা, ভুয়া এনগেজমেন্ট তৈরি কিংবা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রকাশের প্রবণতা বিপরীত ফল দিতে পারে। সাময়িকভাবে কিছু সংখ্যা বাড়লেও এতে দর্শকের আস্থা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা ভঙ্গের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় শুরু করার কোনো একক বা রাতারাতি কাজ করা ‘হ্যাক’ নেই। দ্রুত দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলেও টেকসই আয় গড়ে তুলতে প্রয়োজন নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে কাজ করা, দর্শকের চাহিদা বোঝা, নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি এবং আয়ের একাধিক পথ তৈরি করা। তাই শুধু ভাইরাল হওয়ার পেছনে না ছুটে একটি বিশ্বস্ত দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করাই হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।

 

টাইপ-সি পোর্টের ৮ অজানা ব্যবহার

অর্থজগত ডেস্ক
স্মার্টফোনে টাইপ-সি (USB-C) পোর্ট এখন আর শুধু চার্জ দেওয়ার সংযোগস্থল নয়। ডেটা স্থানান্তর, অডিও-ভিডিও সংযোগ, আনুষঙ্গিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে শুরু করে অন্য গ্যাজেট চার্জ দেওয়ার কাজেও এর ব্যবহার বাড়ছে। ফলে সঠিক ডিভাইস ও অ্যাডাপ্টার থাকলে একটি স্মার্টফোনকে অনেকটাই বহুমুখী ডিভাইসে পরিণত করা সম্ভব।
তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সব স্মার্টফোনের USB-C পোর্ট একই ধরনের সুবিধা সমর্থন করে না। কোনো ফোনে শুধু ডেটা ও চার্জিং সুবিধা থাকে, আবার কোনো মডেলে ডিসপ্লে আউট, দ্রুত ডেটা স্থানান্তর কিংবা USB OTG-এর মতো অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। তাই ব্যবহারের আগে ফোনের স্পেসিফিকেশন যাচাই করা জরুরি।
অন্য ডিভাইসে চার্জ দেওয়া:
USB-C পোর্টের অন্যতম সুবিধা হলো রিভার্স চার্জিং। ফোনটি যদি এই সুবিধা সমর্থন করে, তাহলে Type-C to Type-C ক্যাবলের মাধ্যমে অন্য স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ, ইয়ারবাডস কিংবা ছোট গ্যাজেটে কিছুটা চার্জ দেওয়া যায়। জরুরি মুহূর্তে এতে ফোনটি পাওয়ার ব্যাংকের মতো কাজ করতে পারে।
পেনড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড ব্যবহার:
বড় ফাইল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বা ক্লাউড স্টোরেজের ওপর নির্ভর না করেও কাজ করা যায়। USB OTG সমর্থিত ফোনে Type-C পেনড্রাইভ সরাসরি যুক্ত করে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন ফাইল কপি বা সরানো সম্ভব। মেমোরি কার্ড রিডার ব্যবহার করেও একইভাবে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। বিশেষ করে ক্যামেরায় ধারণ করা বড় আকারের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ফোনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর।
কীবোর্ড ও অন্যান্য ইনপুট ডিভাইস:
দীর্ঘ ই-মেইল, প্রতিবেদন বা নথি ফোনে টাইপ করার প্রয়োজন হলে টাচস্ক্রিনের বদলে USB কীবোর্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। সমর্থিত ফোনে মাউসও যুক্ত করা সম্ভব। ফলে স্মার্টফোনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটাই ডেস্কটপ কম্পিউটারের কাছাকাছি চলে আসে।
টিভি বা মনিটরে বড় পর্দায় প্রদর্শন:
কিছু স্মার্টফোনের USB-C পোর্ট ভিডিও আউট সমর্থন করে। সে ক্ষেত্রে উপযুক্ত USB-C to HDMI অ্যাডাপ্টার বা কেবল ব্যবহার করে ফোনের স্ক্রিন টিভি বা মনিটরে দেখানো যায়। প্রেজেন্টেশন, ছবি, ভিডিও কিংবা গেম বড় পর্দায় উপভোগের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। তবে এ সুবিধা সব ফোনে থাকে না এবং শুধু USB-C পোর্ট থাকলেই ভিডিও আউট নিশ্চিত হয় না।
উন্নতমানের অডিও রেকর্ডিং:
কনটেন্ট নির্মাতা, সাংবাদিক কিংবা পডকাস্টারদের জন্য USB-C পোর্টে বাহ্যিক মাইক্রোফোন যুক্ত করার সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। ফোনের বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনের পরিবর্তে মানসম্মত USB মাইক্রোফোন ব্যবহার করলে পরিবেশ ও রেকর্ডিংয়ের ধরন অনুযায়ী আরও পরিষ্কার অডিও পাওয়া যেতে পারে।
তারযুক্ত হেডফোনে উচ্চমানের অডিও:
অনেক আধুনিক ফোনে ৩.৫ মিলিমিটারের হেডফোন জ্যাক নেই। সেক্ষেত্রে USB-C হেডফোন অথবা উপযুক্ত USB-C অডিও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যায়। তবে অডিওর মান শুধু USB-C সংযোগের ওপর নির্ভর করে না; ফোন, অ্যাডাপ্টার, DAC, হেডফোন এবং অডিও ফাইলের মানও গুরুত্বপূর্ণ।
গেমিং কন্ট্রোলার সংযোগ:
মোবাইল গেমে স্পর্শনির্ভর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তারযুক্ত গেমিং কন্ট্রোলার ব্যবহার করতে চাইলে USB-C পোর্ট কাজে লাগানো যায়। উপযুক্ত কন্ট্রোলার ফোনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করলে ব্লুটুথ-নির্ভর সংযোগের প্রয়োজন হয় না। এতে কিছু ক্ষেত্রে সংযোগের স্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। তবে গেমটি ওই কন্ট্রোলার সমর্থন করে কি না, সেটিও দেখতে হবে।
বিশেষায়িত গ্যাজেট পরিচালনা:
USB-C-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো বিভিন্ন বিশেষায়িত ডিভাইসের সঙ্গে স্মার্টফোনকে যুক্ত করার সুযোগ। OTG ও প্রয়োজনীয় অ্যাপ সমর্থন থাকলে এন্ডোস্কোপ ক্যামেরা, কিছু মেডিকেল ডিভাইস, পরিমাপক যন্ত্র বা অন্যান্য পেরিফেরাল ফোনের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। ফলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের ডিভাইস না থেকে কাজের একটি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, স্মার্টফোনের USB-C পোর্টকে শুধু চার্জিংয়ের জায়গা হিসেবে দেখলে এর একটি বড় অংশের সক্ষমতা অজানাই থেকে যায়। ফাইল স্থানান্তর থেকে শুরু করে কীবোর্ড, মাইক্রোফোন, কন্ট্রোলার কিংবা বিশেষায়িত যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ—সঠিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সমর্থন থাকলে এই ছোট পোর্টই স্মার্টফোনকে আরও বহুমুখী করে তুলতে পারে।

নতুন বেতনে হিসাবের বড় পরীক্ষা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পে ফিক্সেশন শুরু হচ্ছে সোমবার, ৫ অক্টোবর। নতুন কাঠামোয় কার মূল বেতন কত দাঁড়াবে, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে কত টাকা বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়া যাবে—এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মূল আগ্রহের বিষয় সেটিই। তবে এই হিসাব নির্ধারণ শুধু বর্তমান মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে না; চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বেতন পরিবর্তনের তথ্যও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবরের মধ্যে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য আইবাস++-এর নির্ধারিত মডিউলে অনলাইনে চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণের আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি কেবল একটি অনলাইন ফরম পূরণের বিষয় নয়; বরং চাকরির দীর্ঘ সময়ের বেতন-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে নতুন কাঠামোর সমন্বয় করেই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করা হবে।
পে ফিক্সেশনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য মূল বেতনের তথ্য প্রস্তুত রাখতে হবে। এর পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য, পদোন্নতি, বদলি, সময় স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেডের মতো পরিবর্তনের রেকর্ডও প্রয়োজন হবে। এসব তথ্যের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও নথিপত্র হাতের কাছে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইবাস++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও সচল থাকতে হবে।
এখানেই পে ফিক্সেশনের মূল জটিলতা। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিজীবনে একাধিকবার পদোন্নতি, বদলি বা বেতন পুনর্নির্ধারণ হয়ে থাকলে তার বর্তমান বেতন কীভাবে নতুন কাঠামোয় বসবে, সেটি নির্ভর করবে আগের প্রতিটি ধাপের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের ওপর। ফলে শুধু বর্তমান মূল বেতন সঠিক হলেই পুরো হিসাব নির্ভুল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতের কোনো তথ্য বাদ পড়লে বা ভুলভাবে দেওয়া হলে নতুন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি বকেয়া হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

অনলাইন আবেদন শেষ ধাপ নয়

আইবাস++-এ তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরই পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হবে না। সংশ্লিষ্ট বেতন ও হিসাব পরিশোধ কর্মকর্তার কার্যালয় অনলাইনে দেওয়া তথ্য চাকরির মূল নথির সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করবে। অর্থাৎ ডিজিটাল তথ্য এবং অফিসে সংরক্ষিত চাকরির রেকর্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা বাধ্যতামূলক।
যাচাইয়ে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে পে ফিক্সেশন অনুমোদন করা হবে। এরপর আইবাস++ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হবে। ওই নম্বর এবং নতুন নির্ধারিত বেতন সংশ্লিষ্ট চাকরির নথিতে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতনসংক্রান্ত হিসাব বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন বেতন নির্ধারণের একটি ডিজিটাল রেকর্ডও থাকবে।

অক্টোবরের বেতনে বকেয়ার হিসাব

পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে অক্টোবরের বেতন বিল প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন এবং আগের কাঠামোয় পাওয়া বেতনের পার্থক্য হিসাব করে বকেয়া বা এরিয়ার নির্ধারণ করা হবে। ফলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে অনেকের জন্য অতিরিক্ত অর্থ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সবার প্রাপ্য অর্থ একই হবে না।
কারও বকেয়া কত হবে, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখসহ একাধিক বিষয়ের ওপর। একই গ্রেডের দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির ইতিহাস ভিন্ন হলে তাদের বকেয়ার পরিমাণেও পার্থক্য হতে পারে।
এ কারণে নতুন বেতনকাঠামোয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু নতুন বেতনের অঙ্ক জানা নয়; বরং সেই অঙ্ক কীভাবে নির্ধারিত হলো এবং আগের সময়ের বকেয়া কীভাবে হিসাব করা হলো, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, সময় স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্যের কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন না করা হলে চূড়ান্ত বেতন ও এরিয়ার হিসাব নিয়ে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সুতরাং পে ফিক্সেশনের এই ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক তথ্য, সঠিক নথি এবং চাকরির পূর্ববর্তী বেতন ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন। নতুন বেতনকাঠামোর সুফল বাস্তবে কতটা নির্ভুলভাবে প্রতিফলিত হবে, তার বড় অংশই নির্ভর করছে এই তথ্য যাচাই ও বেতন পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার ওপর।

বিক্রির চাপে দুর্বল শেয়ার বাজার

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
দেশের শেয়ার বাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। এর প্রভাবে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই দুর্বলতা দেখা গেছে। পাঁচ কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন আসায় বাজারের সামগ্রিক অবস্থানও চাপের মধ্যে ছিল।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স ৪৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এ সূচক ছিল ৫ হাজার ৫৭৮ পয়েন্ট। একই সময়ে বাছাই করা কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ১১২ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএসও ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে নেমেছে।
সূচকের এই পতনকে শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির দরপতনের ফল হিসেবে দেখলে বাজারের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাবে না। কারণ সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ কোম্পানির দর কমেছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৮৯টির। বিপরীতে দর কমেছে ২৮০টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির এবং ২৮টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি। অর্থাৎ বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রির চাপই ছিল স্পষ্টভাবে বেশি।
বাজারের সূচক পতনে বড় ভূমিকা রেখেছে পূবালী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ (এলএইচবি), ব্যাংক এশিয়া ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এসব কোম্পানির দর কমার প্রভাব সূচকে তুলনামূলক বেশি পড়েছে। ফলে বাজারের প্রধান সূচকগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে লেনদেনের দিক থেকে বাজারে একেবারে স্থবিরতা ছিল না। বরং খাতভিত্তিক লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গেছে। মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে বস্ত্র খাত ছিল শীর্ষে। সাধারণ বীমা খাত ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর মিউচুয়াল ফান্ড ৮ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ৬ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
খাতভিত্তিক রিটার্নের চিত্রও বাজারের দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্ট করে। সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা খাতে। কাগজ খাতে দর কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সিরামিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে এবং সিমেন্ট খাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অর্থাৎ বেশ কয়েকটি খাতে বিক্রির চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি।
এর বিপরীতে কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও ইতিবাচক ছিল। বস্ত্র খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পাট খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিশেষ করে বস্ত্র খাতে লেনদেনের আধিপত্য এবং ইতিবাচক রিটার্ন—দুটিই দেখাচ্ছে, সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরো বাজার থেকে সরে না গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু খাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
দেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের দুর্বলতা দেখা গেছে। সপ্তাহ শেষে সিএএসপিআই সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৮৩২ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহে সূচকটি ছিল ১৪ হাজার ৯১২ পয়েন্ট। একইভাবে সিএসসিএক্স সূচক ৯ হাজার ১৪৮ পয়েন্ট থেকে কমে ৯ হাজার ১০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। সেখানে লেনদেন হওয়া ২৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৭টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ১৬৯টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ ডিএসইর মতো সিএসইতেও দর হারানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সামগ্রিক চিত্র বলছে, গত সপ্তাহে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। সূচকের পতনের পাশাপাশি অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে লেনদেন কেন্দ্রীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাজারে ব্যাপকভিত্তিক ক্রয়চাপের পরিবর্তে বাছাই করে বিনিয়োগের প্রবণতা ফুটে উঠেছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারের গতি ধরে রাখতে বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি খাতভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদেশি বিনিয়োগে ফিরছে গতি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
সংস্কার কার্যক্রম, বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর উদ্যোগের প্রভাবে দেশের শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি-আগস্টের লেনদেনের পরিমাণ ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের পুরো বছরের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিদেশি বিনিয়োগের এই বাড়তি প্রবাহকে শুধু বাজারে লেনদেন বৃদ্ধির পরিসংখ্যান হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার, আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রস্তুতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআইটিএ) ব্যবস্থার কিছু জটিলতা দূর করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট চালুর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ আগের তুলনায় আরও অনুকূল করার চেষ্টা চলছে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ারের মতে, বিদেশি লেনদেন বাড়ার পেছনে কোনো একক উদ্যোগকে দায়ী করা যায় না। বাজারের আন্তর্জাতিকীকরণ, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার—বিভিন্ন পদক্ষেপের সম্মিলিত প্রভাবেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে।
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতাও সম্প্রতি কমানো হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে এনআইটিএ হিসাবের প্রয়োজন হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় এ ধরনের হিসাব না করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
একই সঙ্গে টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার প্রস্তুতিও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমলে অর্থ দ্রুত ঘুরিয়ে বিনিয়োগ করার সুযোগ বাড়ে। ফলে বাজারের তারল্য ও কার্যকারিতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাজারের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও উন্নত হতে পারে।
তবে বিদেশি লেনদেনের প্রবৃদ্ধি পুরো আট মাসজুড়ে একই গতিতে ছিল না। মাসভেদে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা এক লাফে বেড়ে ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকায় ওঠে। মার্চে আবার কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে।
মে মাসে পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের সর্বোচ্চ। এরপর জুনে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা লেনদেন হয়। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়।
তুলনায়, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের চিত্র ছিল অপেক্ষাকৃত কম। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন হয় ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকায় নেমে আসে।
এপ্রিল থেকে আবার বিদেশি লেনদেনে গতি দেখা যায়। ওই মাসে লেনদেন হয় ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা। জুনে তা কমে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা হলেও জুলাইয়ে বেড়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকায় ওঠে। আগস্টে লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের মাত্র আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। অর্থাৎ বছরের বাকি চার মাসের লেনদেন যোগ হওয়ার আগেই গত বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশ অতিক্রম করেছে।
এতে স্পষ্ট হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে পুঁজিবাজারে নতুন করে গতি তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে সংস্কারের ধারাবাহিকতা, নীতির স্থিতিশীলতা, দ্রুত লেনদেন নিষ্পত্তি এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তখনই টেকসই হবে, যখন সাময়িক লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আস্থাও তৈরি হবে।