সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও আর্থিক বিশ্বের নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম
/ month
placeholder text
spot_img
সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
Home Blog Page 4

লন্ডন ব্রিজ চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ‘দেলুপি’

০

অর্থজগত ডেস্ক

উত্তর আমেরিকার তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয়ের পর এবার লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একের পর এক উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে। নতুন এই আমন্ত্রণ ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় যুক্ত করেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

‘দেলুপি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন চিরনজিৎ বিশ্বাস। তিন দিন আগে পাওয়া এই অর্জনের রেশ কাটতে না কাটতেই লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে এসেছে নতুন সুখবর। এর মধ্য দিয়ে দেশীয় বাস্তবতা ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে নিজেদের গল্প তুলে ধরার আরও একটি সুযোগ পাচ্ছে।

নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির প্রদর্শনীর খবর জানান। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘দেলুপি’। তবে নির্মাতা ও ছবিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই ওই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। এ কারণে লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দলবদ্ধভাবে উৎসবে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছবিটি উপভোগ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিসরে একাধিকবার জায়গা করে নিয়েছে ‘দেলুপি’। নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। এ ছাড়া ইতালির কারাভান চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রশংসা পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের উৎসবে অংশগ্রহণ এবং অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বদর্শকের কাছে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করছে।

‘দেলুপি’র বিশেষত্ব এর গল্পের বিষয়বস্তু ও নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ২০২৪ সালে খুলনা অঞ্চলে নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সে সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁদের অভিজ্ঞতার মতো বিষয় চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষেরাও অভিনয় করেছেন। ফলে গল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনপদের মানুষ ও বাস্তবতার একটি নিবিড় সংযোগ তৈরি হয়েছে।

চিত্রনাট্য ও নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে ছবিটি। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিরনজিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায়, জাকির হোসেনসহ অনেকে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একটি ছবির অংশগ্রহণ কেবল নির্মাতার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এর মাধ্যমে দেশের গল্প, সমাজবাস্তবতা ও সংস্কৃতিও বৃহত্তর দর্শকসমাজের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সেই বিবেচনায় ‘দেলুপি’র ধারাবাহিক উৎসবযাত্রা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। খুলনা অঞ্চলের নির্দিষ্ট সময়ের সংকট ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমা আন্তর্জাতিক পরিসরে কতটা সাড়া জাগাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের।

লন্ডন ব্রিজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘দেলুপি’র সামনে খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তাসভির চলচ্চিত্র উৎসবে চিরনজিৎ বিশ্বাসের সেরা অভিনেতার পুরস্কারজয় এবং এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ছবিটির পরিচিতি আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের আহ্বান চলচ্চিত্রটির সঙ্গে দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

 

মগবাজারে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে না থাকায় অক্ষত রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। হামলায় কেউ হতাহত হননি।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোরে মগবাজার এলাকায় আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে সে সময় গাড়িতে আসিফ আকবর উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হামলার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আসিফ আকবর দেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন। সংগীতের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য কিংবা এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে পরীমণির জন্মদিনের সূচনা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির জন্মদিন ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ বরাবরই চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সময়ে জমকালো আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করে আলোচনায় এলেও এবার বিশেষ দিনটির সূচনা করেছেন একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে। পাশে ছিল তাঁর দুই সন্তান ছেলে পূণ্য ও মেয়ে প্রিয়ম। সন্তানদের ভালোবাসা আর স্নিগ্ধ উপস্থিতিতে জন্মদিনের প্রথম প্রহর কাটিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) পরীমণির জন্মদিন। দিনটি শুরু হওয়ার মুহূর্তগুলো ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের খোলা গাউন পরে হাসিমুখে জন্মদিনের কেক কাটছেন অভিনেত্রী। এ সময় তাঁর দুই সন্তানও পাশে ছিল। কেকের ওপর জ্বলছিল মোমবাতি, আর মাকে ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছিল দুই শিশু।

জন্মদিনের এই আয়োজনের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কেক কাটার সময় সন্তানদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ। পূণ্য ও প্রিয়মকে মাকে চুমু দিয়ে আদর করতে দেখা যায়। সন্তানদের এমন স্নেহমাখা উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগের মিশেলে এক পারিবারিক মুহূর্ত।

ভিডিওটির ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছেন, ‘হ্যাপি বার্থডে টু মি!’ সঙ্গে দিয়েছেন লাল হৃদয় ও ফুলের ইমোজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে নানা চড়াই-উতরাই, প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন পরীমণি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে সন্তানদের উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। জন্মদিনের প্রথম প্রহরের এই আয়োজনেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। জাঁকজমকের পরিবর্তে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং তাদের ভালোবাসায় দিনটি শুরু করাই যেন এবার তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।

এর আগে বিভিন্ন বছর দেশ-বিদেশে জমকালো আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করে আলোচনায় এসেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী। সাজসজ্জা, অতিথি সমাগম ও ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। তবে এবারের জন্মদিনের সূচনায় ছিল না তেমন কোনো আড়ম্বর। বরং পরিবারের ছোট্ট পরিসরে সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্যই হয়ে উঠেছে উদযাপনের মূল আকর্ষণ।

পরীমণির জন্মদিনের এই মুহূর্তটি তাই কেবল একজন তারকার জন্মদিন উদযাপনের ঘটনা নয়; বরং সন্তানদের ঘিরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আবেগ ও ভালোবাসারও একটি প্রকাশ। ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ভিডিওতে সেই আন্তরিকতার ছাপ স্পষ্ট। জমকালো আয়োজনের বদলে দুই সন্তানের সান্নিধ্যে জন্মদিন শুরু করে পরীমণি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তুলতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না—প্রিয়জনের ভালোবাসাই হতে পারে সবচেয়ে বড় উপহার।

 

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম ঋণের চাপে বাংলাদেশ

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে সরকারি ঋণের হার দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশে থাকতে পারে। বিপরীতে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে এ হার ৭০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশেরও বেশি। তবে ঋণের অনুপাত কম থাকলেই অর্থনীতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত—এমনটি বলা যায় না। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, রাজস্ব আয় এবং ঋণের অর্থ ব্যবহারের দক্ষতাও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমএফের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে ভারতে এ হার ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৯৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানে ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে ঋণের অনুপাত প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের সরকারি ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের আকার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তবে ঋণের অনুপাতের এই ব্যবধান দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পুরোপুরি বিচার করা সম্ভব নয়। সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে রাজস্বের কত অংশ ব্যয় হচ্ছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান কতটা পর্যাপ্ত এবং সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য কেমন—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতা, উন্নয়ন ব্যয়ের চাহিদা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় নিয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত কম থাকার একটি সুবিধা হলো, প্রয়োজনের সময় সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি নীতিগত সুযোগ পেতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ঋণ নিয়ে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, যেগুলো দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যয়ের অদক্ষতা ঋণের সুফল কমিয়ে দিতে পারে। কোনো প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত আয় বা অর্থনৈতিক সুফল না মিললেও ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের দায় সরকারকে বহন করতে হয়। এতে ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো। কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকলে উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং অপ্রদর্শিত আয় ও সম্পদ শনাক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে সীমিত সম্পদ থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায়।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ফলে ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ঋণপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বিনিময় হার দুর্বল হলে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যায়। তাই ঋণের উৎস, সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রাঝুঁকি বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সতর্ক ঋণনীতি অনুসরণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জিডিপির অনুপাতে সরকারি ঋণ তুলনামূলক কম থাকা দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অবস্থান তৈরি করেছে। তবে এই সুবিধা ধরে রাখতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সরকারি ঋণের অনুপাত কম হলেও এটিকে আত্মতুষ্টির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এ অবস্থানকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ঋণ গ্রহণের পরিমাণের চেয়ে ঋণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা ভবিষ্যৎ আয় ও উৎপাদন বাড়াতে কতটা ভূমিকা রাখছে—সেই বিবেচনাই বাংলাদেশের টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

প্রকৃত বাজারমূল্যে সম্পত্তি নিবন্ধনের উদ্যোগ সরকারের

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
স্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচায় রাজস্ব ফাঁকি ও কালো টাকার প্রবাহ বন্ধ করতে জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পত্তির দলিলে প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রচলিত সর্বনিম্ন মৌজা মূল্যের পরিবর্তে বাস্তব বাজারদর নির্ধারণে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। আগামী চার মাসের মধ্যে এসব কমিটির মাধ্যমে দেশের সব মৌজার জমি ও স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ভিত্তিতে ফি ও করের হার পুনর্নির্ধারণ করে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাটের দলিলে প্রকৃত লেনদেন মূল্যের পরিবর্তে সরকারি নির্ধারিত মৌজা মূল্য দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর জমির প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বড় ব্যবধান থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দলিলে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ না করায় লেনদেনের একটি অংশ হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সৃষ্টির সুযোগ বাড়াচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, কয়েকটি ধাপে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জমি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, কমিটির মাধ্যমে বাজারমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় একটি মডেল তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সম্পত্তি হস্তান্তর থেকে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। তবে শুধু বাজারমূল্য নির্ধারণ করলেই হবে না, জমি ও সম্পত্তি নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি। বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করার পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতিকে বিজ্ঞানসম্মত, সুনির্দিষ্ট ও দেশব্যাপী অভিন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহলের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ বন্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এ সংস্কার কার্যকর হলে জমি কেনাবেচায় অবৈধ লেনদেন ও কালো টাকার প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। তবে সে জন্য সম্পত্তির ধরন, ভৌগোলিক অবস্থান ও ব্যবহারভেদে সুস্পষ্ট মূল্যায়ন মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। বাজারদরের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মূল্য হালনাগাদ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বাধ্যতামূলক গণশুনানির ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।
সরকারের এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভার সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সময়ে ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়কে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও ডিজিটাল সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, আইন ও বিচার বিভাগকে মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের সব মৌজার প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভাগীয় কমিটিগুলো বড় শহরগুলোর জমি ও স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করবে। জেলা কমিটিগুলোর আওতায় থাকবে পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সম্পত্তি। আর অন্যান্য এলাকার মূল্য নির্ধারণ করবে উপজেলা পর্যায়ের কমিটি।
মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতীতের নিবন্ধিত দলিল, সাম্প্রতিক জমি কেনাবেচার তথ্য, ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার, অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার যাচাই ও গণশুনানির মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৌজাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় নতুন নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে বিদ্যমান ফি ও কর কার্যকর করা হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের মোট ব্যয় এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে কী প্রভাব পড়বে, তা পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন উৎসাহিত করা, সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ যৌক্তিক রাখা এবং সরকারের রাজস্ব স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ফি ও করের হার পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। নতুন হার ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে সম্পত্তির সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে এ বিধিমালার একটি বিধি সংশোধন করা হলেও পরবর্তী সময়ে জমির বাজারদরের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বিতভাবে মৌজা মূল্য হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে সরকারি নির্ধারিত মূল্য এবং বাস্তব বাজারদরের ব্যবধান ক্রমেই বেড়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মৌজা মূল্যের তথ্যেও এ ব্যবধানের চিত্র পাওয়া যায়। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহপুর মৌজায় প্রতি শতাংশ বাড়ির জমির নির্ধারিত মূল্য ৩২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, আনুল মৌজায় ১০ লাখ ১ হাজার টাকা, কড়াইল মৌজায় ২ লাখ ৯ হাজার টাকা, জোয়ার সাহারায় ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ৩৬ লাখ ৩ হাজার টাকা, দক্ষিণখানে ১৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং মহাখালী মৌজায় ৫৯ লাখ ৯ হাজার টাকা।
তবে এসব এলাকার প্রকৃত বাজারদর সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। অনলাইন সম্পত্তি বিক্রির বিজ্ঞাপনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে প্রতি কাঠা জমির দাম ১ কোটি ১৭ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন রয়েছে। অন্যদিকে, ‘ঢাকা-মাওয়া সিটি’ প্রকল্পে প্রতি কাঠা জমি ৬০ লাখ টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপনও দেখা গেছে। তবে বিজ্ঞাপনে চাওয়া দাম এবং প্রকৃত লেনদেনের মূল্য এক নাও হতে পারে।রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানেও এ খাতের গুরুত্ব স্পষ্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি এবং কর থেকে সরকারের আয় হয়েছিল ১২ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সিপিডির এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিলে প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত না হওয়ায় সরকার বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য নির্ধারণ ও দলিলে তা প্রতিফলিত করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে অপ্রদর্শিত অর্থের প্রবাহ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তবে সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে মূল্যায়ন পদ্ধতির নির্ভুলতা, নিয়মিত হালনাগাদ, নিবন্ধন ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর। একই সঙ্গে নতুন ফি ও করের হার এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রাজস্ব বৃদ্ধি পায়, অথচ সাধারণ ক্রেতার জন্য বৈধভাবে সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যয় অসহনীয় হয়ে না ওঠে।

অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি রোধে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ

অর্থজগত প্রতিবেদন

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। এ ফাঁকি রোধের পাশাপাশি ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত, মোবাইল ফোন চুরি প্রতিরোধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি বন্ধ করতে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়নে অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর তথ্য উঠে এসেছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে বর্তমানে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও নিবন্ধন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ পর্যায়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হবে।

বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক কমিশন সভায় এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্যবস্থাটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও জনভোগান্তি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হ্যান্ডসেট বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের জন্য পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের হ্যান্ডসেটের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। ফলে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিস্তার রোধের পাশাপাশি দেশের মোবাইল ফোনের বাজারে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

সাইবার ঝুঁকিতে সাময়িক বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

০

অর্থজগত প্রতিবেদন

সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার কয়েকটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ চলছে। ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হবে। তবে এটি চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এর ফলে সার্ভারে সংরক্ষিত ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি পিএইচপিভিত্তিক আরও কয়েকটি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কোনো সাইবার হামলা চালানো হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নভেম্বর থেকে সব শ্রেণির নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থার আওতায় নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। নতুন নিয়মে ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হলেও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত শর্তে লাইসেন্স ফি দিতে হবে।

গত বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএফএসএ। সংস্থাটি জানায়, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় প্রণীত এই বিধিমালার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, লাইসেন্স গ্রহণ ও তদারকির কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় রাস্তার পাশের অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য ব্যবসার পাশাপাশি বড় উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানও নির্ধারিত নিয়মের আওতায় আসবে।

প্রবিধানে নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, পেস্ট্রি শপ, ফলের রসের দোকান, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী এবং পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা। এ ছাড়া রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রির দোকান, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসাও এ তালিকায় রয়েছে। খাদ্যপণ্যের আমদানি, রপ্তানি, মজুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের নির্দিষ্ট কার্যক্রমও প্রবিধানের আওতায় পড়বে।

কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা লাইসেন্সের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তনসহ বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে। প্রবিধানে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। মধ্যবর্তী আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট তফসিল অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিমালায় কঠোরতা আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক এবং নিউট্রাসিউটিক্যালজাতীয় পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনে প্রযোজ্য লাইসেন্স নিতে হবে। শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান মানতে হবে।

এ ছাড়া জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রবিধান অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এসব পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক হবে।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে। আবেদনকারীদের প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিএফএসএর জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্যের মোড়ক থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান বা নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠলে নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় শনাক্ত ও অভিযোগ জানানো সহজ হবে।

বিএফএসএ জানিয়েছে, যেসব খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক, সেগুলো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন, পণ্যের পরিচিতি ও জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রাপ্তি এবং বিধিমালা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নিবন্ধন ও লাইসেন্স দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি কার্যকর করা গেলে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের আস্থা বাড়ানো সহজ হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ তেলের দাম

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে আঘাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও দরপতন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃহস্পতিবার ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে দাঁড়ায়। গত ১৮ মে’র পর এই প্রথম তেলের দাম এ পর্যায়ে পৌঁছাল।

এর আগে বুধবার ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত ও আটজন আহত হন। একই দিনে সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে তিনটি জাহাজ মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি বাহিনী। উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি মিশন থেকেও কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো ধাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা বাড়লে তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়বে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

প্রায় আট মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে তখন বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

সংঘাতের মধ্যে গত এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে পৌঁছায়। মে মাসের শেষ দিকে তা আবার ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। পরে জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক কার্যকর না হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পর তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

তবে জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রফতানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায় ছাড়িয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন বৃদ্ধি। ফলে সরবরাহের বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা দিলেও নতুন করে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ায় বাজারের অনিশ্চয়তা কাটছে না।

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে দরপতন ঘটে।

ইউরোপের প্রধান কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ১ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। এশিয়ায় জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ কমেছে।

তেলের উচ্চমূল্যের চাপ পড়েছে বিমান পরিবহন খাতেও। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনস কোম্পানি আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর লোকসান হতে পারে। এ কারণে মুনাফা অর্জনের আগের পূর্বাভাস থেকেও সরে এসেছে কোম্পানিটি।

বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু জ্বালানি তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজার, পরিবহন ব্যয় ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশায়ও। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

০

অর্থজগত প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। উত্তরাধিকার সূত্রে সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সংকট বেড়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে নানা ধরনের প্রক্ষেপণ তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তথ্য বিকৃত করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জিডিপি নিয়ে যে প্রক্ষেপণ উপস্থাপন করেছে, সেখানে একটি মৌলিক বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে। সেটি হলো, প্রয়োজনীয় সংস্কার না করা হলে প্রবৃদ্ধি আরও কম হবে।
সরকারের সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপে যাতে মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে না যায়, সে জন্য সরকার যুগান্তকারী কয়েকটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মতবিনিময় সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেখা ইসলামসহ জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।